অবশেষে গ্রীসের এথেন্সে দেড়শ’ বছর পর মসজিদ নির্মাণের অনুমতি

দেড়শ’ বছরের মধ্যে এই প্রথম গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে একটি মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। এথেন্সের কয়েক হাজার মুসলমানের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

অবশ্য ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে সিরিজা পার্টি বিলের পক্ষে ভোট দিলেও বিরোধিতা করেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রিকস পার্টি। শেষ পর্যন্ত ২৩০ আসনের পার্লামন্টে দুইশ’র বেশি ভোট পেয়ে বিলটি পাস হয়।

জেনারেল অ্যাকাউন্টিং অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এথেন্সের ইলায়োনাস এলাকায় মসজিদটি নির্মাণ হবে। এটি নির্মাণে ব্যয় হবে ১০ লাখ ইউরো। নির্মাণ ব্যয়ের পুরোটাই বহন করবে সরকার।

রাজধানীতে একটি মসজিদ নির্মাণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নিকোস ফিলিস বলেন, ‘বর্তমান অস্থায়ী মসজিদগুলো দেশের জন্য মর্যাদাহানিকর এবং গ্রিসের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’

তবে মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করে ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রিকস পার্টির ডেপুটি এমপি জি লেজারিডিস বলেন, ‘পার্টির এ দ্বিমত নতুন কিছু নয়, এটা চূড়ান্ত সীমা যা আমরা শুরুতেই বলেছিলাম। এতে প্রমাণিত হয়, আমরা সিরিজা পার্টির সব কিছুর সঙ্গে একমত নই।’

এই মসজিদের কোনো মিনার থাকবে না। এতে ৩৫০ জন মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদ কমপ্লেক্সের মধ্যে পার্কিং এবং শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থাও থাকবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন দিয়ে ২০০০ সালে একটি আইন পাস হয়েছিল। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এটি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। পার্লামেন্টে বিল পাশের মধ্য দিয়ে সব জটিলতার অবসান হলো।

উল্লেখ্য যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর রাজধানীর মধ্যে এথেন্সই একমাত্র রাজধানী যেখানে কোনো মসজিদ নেই। আর পুরো গ্রীসে মসজিদ রয়েছে মাত্র একটি। সেটি তুরস্কের কাছে গ্রীসের সীমান্ত শহর থ্রেসে অবস্থিত।

গ্রিসে দেশটিতে প্রায় ১ লাখ মুসলমানের বাস। এথেন্স জুড়ে প্রায় একশ’রও বেশি অস্থায়ী নামাজের জায়গা রয়েছে। এসব জায়গায় অথবা খেলার মাঠ কিংবা পার্কিংয়ের স্থানে সেখানকার মুসলমানরা নামাজ আদায় করে থাকেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮২৩ ঘণ্টা, আগস্ট ০৬, ২০১৬