আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় নবম স্থানের অধিকারী হলেন এই বাংলাদেশী

আমিরাতে নারীদের জন্য “শেইখা ফাতিমা বিনতে মুবারাকা” শিরোনামে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় নবম স্থানের অধিকারী হয়েছেন বাংলাদেশের কিশোরী ‘রোকাইয়া হাসান জিনাত’। বাংলাদেশের ১০ বছর বয়সী কিশোরী হাফেজ ‘রাফিয়া হাসান জিনাত’ ‘সুললিত কণ্ঠস্বর’ বিভাগে ৭ম ও ‘হেফজ’ বিভাগে ৯ম স্থানের অধিকারী হয়েছেন।

“শেইখা ফাতিমা বিনতে মুবারাকা” প্রথম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার জর্ডানের বিচারক কুরআন বিষয়ক বার্তা সংস্থা ইকনা’র সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন: এই প্রতিযোগিতায় ইরানের প্রতিনিধি ‘হান্নানা খালাফি’ এবং নাইজেরিয়ার প্রতিনিধি ‘আমিনা জায়ফার লাদেন’ যৌথভাবে দশম স্থানের অধিকারী হয়েছেন।
তিনি বলেন: শুধুমাত্র নারীদের জন্য অনুষ্ঠিত “শেইখা ফাতিমা বিনতে মুবারাকা” প্রথম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় আলজেরিয়ার প্রতিনিধি ‘আল-যাহরা হানি’ এবং মোজাম্বিকের প্রতিনিধি ‘জাকিয়া আবু বাকর মাহমুদ এলমী’ যৌথভাবে প্রথম স্থানের অধিকারী হয়েছেন। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থানের পদটি খালি রাখা হয়েছে। তৃতীয় স্থানেরে অধিকারী হয়েছেন কাতারের প্রতিনিধি ‘আমিনা আব্দুর রহমান আহমাদ মাহমুদ’, চতুর্থ স্থানেরে অধিকারী হয়েছেন আফগানিস্তানের প্রতিনিধি ‘সিন্দিসি আব্দুল আজিজ’, পঞ্চম স্থানেরে অধিকারী হয়েছেন নরওয়ের প্রতিনিধি ‘আসমা ফাদা আদরা’, ষষ্ঠ স্থানেরে অধিকারী হয়েছেন আমিরাতের প্রতিনিধি ‘আমিনা আতিক সুলতান মুহাম্মাদ আল-যাহেরী’, সপ্তম স্থানেরে অধিকারী হয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিনিধি ‘হুনাইন আব্দুল কাইউম’ অষ্টম স্থানেরে অধিকারী হয়েছেন নাইজারের প্রতিনিধি ‘ফাতিমা হুসাইন মুসা’, নবম স্থানেরে অধিকারী হয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি ‘রাফিয়া হাসান জিনাত’ এবং যৌথভাবে দশম স্থানের অধিকারী হয়েছেন ইরানের প্রতিনিধি ‘হান্নানা খালাফি’ ও নাইজেরিয়ার প্রতিনিধি ‘আমিনা জায়ফার লাদেন’।
বার্তা সংস্থা ইকনা: আমিরাতে শুধুমাত্র নারীদের জন্য “শেইখা ফাতিমা বিনতে মুবারাকা” শিরোনামে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট “শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান”র স্ত্রী “ফাতিমা বিনতে মুবারক” এবং দুবাইয়ের শাসকের স্ত্রী “হিন্দ বিনতে মাকতুম বিনতে জামিয়া আলে মাকতুম” উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র নারী অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, “শেইখা ফাতিমা বিনতে মুবারাকা” শিরোনামে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা বিশ্বের ৭২টি দেশের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ৬ নভেম্বর শুরু হয়েছে এবং একাধারে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। নারীদের জন্য অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান দুবাইয়ের বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি ক্লাবের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিযোগিতার বিচারকার্য পালন করেছেন সৌদি আরব, মিশর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আলজেরিয়া ও ইরাকের বিচারগণ।
“শেইখা ফাতিমা বিনতে মুবারাকা” শিরোনামে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার উপান্তে ১৭ই নভেম্বর “সুললিত কণ্ঠস্বর” নির্বাচন করার জন্য অপর এক কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশী কিশোরী সপ্তম স্থানের অধিকারী হয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।
আমিরাতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার “সুললিত কণ্ঠস্বর” বিভাগে উত্তীর্ণদের নাম বৃহস্পতি বার ঘোষণা করা হয়েছে। “সুললিত কণ্ঠস্বর” বিভাগে মরক্কোর প্রতিনিধি ‘ইমান আল-যাওয়াতানি, আলজেরিয়ার প্রতিনিধি ‘আল-যাহরা হানি’, ইরানের প্রতিনিধি ‘হান্নানা খালাফী’, আমিরাতের প্রতিনিধি ‘আমিনা আতিক সুলতান মুহাম্মাদ আল-যাহেরী’, মৌরিতানিয়ার প্রতিনিধি ‘রোকাইয়া আবিহা’, মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি ‘ফারিয়াহ বিততে জুল কেইফ’, বাংলাদেশের প্রতিনিধি ‘রাফিয়া হাসান জিনাত’, বহরাইনের প্রতিনিধি ‘শিমান শাকের সাইয়্যেদ আহমাদ হেলাল সালামা’ এবং কুয়েতের প্রতিনিধি ফাতিমা সায়িদ নায়িফ আল-আযামী’ যথাক্রমে যথাক্রমে প্রথম থেকে নবম স্থানের অধিকারী হয়েছেন।
পিরোজপুরের কিশোরী হাফেজ রাফিয়ার বাবার নাম মো. নাজমুল হাসান। রাফিয়া হাফেজ কারি নেছার আহমাদ আন নাছিরী কর্তৃক পরিচালিত যাত্রাবাড়ীর হিফজ মাদরাসা মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনালের ছাত্রী।
২০১৩ সালে রাফিয়া জর্ডানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন।
প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটি ‘রাফিয়া হাসান জিনাতে’র হাতে বাংলাদেশি টাকায় ১৩ লাখ টাকা, সনদপত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেন।