আপনারা কে জানেন যে গণেশের কেন হাতির মাথা!

গণেশ তার বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য প্রসিদ্ধ। কিন্তু তার হাতির মাথাটিই তাকে সর্বাধিক পরিচিতি দান করেছে। এক ঘটনায় স্বয়ং শিব রাগান্বিত হয়ে তার মাথাটি কেটে ফেলেন। তাকে বাঁচাতে একটি হাতির মাথা সেখানে জোড়া লাগিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তার মনুষ্য মাথাটির কি হলো তা কিন্তু অনেকেই জানেন না।

উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগঢ় থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে ভুবনেশ্বর গ্রাম। এই গ্রামেই আছে পাতাল ভুবনেশ্বর মন্দির। কথিত আছে যে, গণেশের কেটে যাওয়া মনুষ্য মুণ্ড এই মন্দিরেই রাখা আছে। আর তা নাকি পাহারা দিচ্ছেন স্বয়ং শিব।

দেবভূমি বলে কথিত উত্তরাখণ্ডের পাতাল ভুবনেশ্বর মন্দিরটি আসলে ভূগর্ভে থাকা একাধিক গুহার সম্মিলনে তৈরি হওয়া একটি বৃহদকার গুহা-মন্দির।

একাধিক গুহা থাকলেও সবগুলি এক জায়গায় গিয়ে মিলিত হয়েছে। মানুষের বিশ্বাস, এই সমস্ত গুহার মিলনস্থলে যে উঁচু পাথরের ঢিবিটি রয়েছে, সেটাই আসলে গণেশের মনুষ্য মুণ্ড।

৯০ ফুট গভীর এবং ১৬০ মিটার দীর্ঘ এই গুহা মন্দিরে আসা বহু ভক্তই মন্দিরের গর্ভগৃহে পৌঁছাতে পারেন না। তবে, মন্দিরটিতে মানুষ একবারই প্রবেশ করেন। দ্বিতীয়বার আর মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করেন না। কারণ তাদের বিশ্বাস এই মন্দিরে একবারই মাত্র প্রবেশ করতে হয়।

ফলে, যারা গণেশের মনুষ্য মুণ্ড রাখার মূল স্থলে না গিয়েই মাঝপথ থেকে ফিরে যান, তাদের আর ওই মন্দিরে যাওয়া হয় না। ভক্তদের আবার বিশ্বাস মন্দিরের গুহার দেওয়াল ধরে চললেও পুণ্য অর্জন হয়। দূর হয় দুঃখ এবং দুর্দশা।

পাতাল ভুবনেশ্বর মন্দিরটি আসলে সরযূ, রামগঙ্গা এবং গুপ্ত গঙ্গার মিলনস্থলের কাছেই গড়ে উঠেছে। এমনকী স্থানীয় বিশ্বাসে দাবি গণেশের মাথা পাহারা দেওয়ার মধ্যে দিয়ে শিব আসলে ছেলের মাথা কেটে ফেলার প্রায়শ্চিত্ত করছেন।