আপনি কি জানেন যে আপনাদের কাছে এক ভাঙ্গা কুঠিরে বাস করে সারা দুনিয়ার ফিকির? কিভাবে -জানুন

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ এবিএম মাহমুদ হোসেন চৌধুরীর একদিন কাকরাইল মসজিদ সংলগ্ন রমনা পার্কে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে সকাল বেলা মনিংওয়ার্কে বের হয়েছেন। হঠাৎ তাদের চোখের সামনে মসজিদ সংলগ্ন একটি ছোট্ট জীর্ণ শীর্ণ কুটির দেখতে পেলেন। ছন বাশের বেড়া। ভেঙ্গে পরছে নানান দিক। চারদিকে কেবল পুরাতন কাপড় টানিয়ে শক্ত পর্দার ব্যবস্থা।

প্রধান বিচারপতির স্ত্রী বললেন, আমাদের গৃহে তো কাজের মানুষের প্রযোজন। এই ছোট ঘরে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। বিচারপতির বাসা রাস্তার অপরপাশে পার্ক সংলগ্ন কাছেই। গরীব মানুষ, ভাল মাইনে দিলে কাজ করতে পার।এই ভাবনায়, বিচারপতি বাসার সামনে গিয়ে অনেকক্ষন ডাকাডাকি করলেন। কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে মহিলার ক্ষীণ আওয়াজ শুনতে পেলেন। বিচারপতির স্ত্রী তখন কথা বলার জন্য ভেতরে প্রবেশ করলেন। গিয়ে দেখলেন ঘরের বারান্দায় এক মা তাঁর মা দুই মেয়েকে নিয়ে বসে কোরআন তেলাওয়াত করছেন। তিনি দৃশ্যটি দেখে বিস্মৃত হয়ে গেলেন। আসার উদ্দেশ্য বলে নিজের পরিচয় দিয়ে বাসার গৃহকর্তার খোঁজ নিলেন।

গৃহকর্ত্রী বললেন, আপা আমার স্বামীতো বাসাতে নেই তিনি ফান্সে আছেন। তার ব্যাপারে জানতে হলে কাকরাইল মসজিদে যোগাযোগ করবেন। উনার নাম মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব। বিচারপতির স্ত্রী অবাক হয়ে তাদের করুন অবস্থা দেখে বললেন, তিনি ফান্সে কি চাকুরি করেন? দেশে কবে আসেন।
গৃহকর্ত্রী উত্তর দিলেন, তিনি দাওয়াতের কাজে বিদেশ গেছেন। গত মাসে রাশিয়া ছিলেন, এমাসে ফান্স কাজ করে আগামী মাসে লন্ডন যাবেন। পরের মাসে আমেরিকা হয়ে বাংলাদেশে আসবেন।
কথাটি শুনে বিচারপতির স্ত্রী চোঁখ কপালে তুলে বেরিয়ে এসে স্বামীকে বললেন, আপনি আমাকে কোথায় পাঠিয়েছেন কাজের মহিলা খুজার জন্য। এই ভাঙ্গা কুঠিরের গৃহকর্তা ফান্সে আছেন। গতমাসে রাশিয়া ছিলেন। আগামী মাসে লন্ডন থেকে আমেরিকা হয়ে বাংলাদেশে আসবেন। গৃহে তিনজন নারী কোরআনে পাক পরম মমতায় তেলাওয়াত করছেন। তাদের কি যে সুন্দর নুরানী মায়াবী চেহারী! বিচারপতি বললেন, গৃহকর্তার নাম কি জিজ্ঞেসা করেছ?
স্ত্রী বললেন, মাওলানা আব্দুল আজিজ। বিচারপতি বললেন, বল কি!!
তিনিতো কাকরাইল মসজিদের ইমাম। বড় হুজুর। বাংলাদেশের তাবলীগ জামাতের আমীর। যিনি দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে গোটা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ান।

এই আমাদের আকাবীর। এই তাদের ফিকির। তায়াল্লুক মায়াল্লাহ। আর দুনিয়াবী জীবনের চিত্র। তারা অর্জন করেছিলেন কবুলয়তের সবোর্চ্চ স্থর। এজন্য মূল বিষয় হল আল্লাহর দরবারে নিজে কবুল হওয়া। তার সাথে নিজের সম্পর্ককে ঠিক করে নো। আমাদের আজ সব আছে, কেবল সেই সম্পর্ক থেকে আমরা ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.