আপনি কি জানেন যে আপনি যে নামী-দামী কফি খাচ্ছেন তা তৈরি হয়েছে কোন এক প্রানীর বিষ্ঠা থেকে ?

আপনার বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে পড়ে দেখুন পুরোটা । বিশ্বের সবচেয়ে দামি কফি ‘কফি লুয়াক’ তৈরি হয় গন্ধগোকুলের বিষ্ঠা থেকে! এটা কীভাবে? চাষ করা কফির বীজগুলো খেতে দেওয়া হয় গন্ধগোকুলকে। তারা বেছে বেছে সবচেয়ে ভালো বীজগুলোকে গিলে নেয়। কিন্তু এ বীজ পুরোপুরি হজম করতে পারে না প্রাণীটি। কিছুটা হজম হয়, আর কিছুটা রয়ে যায় আস্ত। পরে গন্ধগোকুল বিষ্টা ছাড়লে তা থেকে আস্ত বীজগুলো সংগ্রহ করেন খামারিরা।

আর সে বীজগুলো পরিষ্কার করেই তৈরি করা হয় সবচেয়ে দামি কফি। ওয়েবসাইটটির তথ্যমতে, কফির বীজগুলো গন্ধগোকুলের পেটে গিয়ে তাদের এনজাইমের (প্রাণীর দেহকোষে উৎপন্ন জৈব রাসায়নিক পদার্থ বিশেষ) সঙ্গে মিশে যায়। এতে কফির বীজে যোগ হয় ক্যারামেলের ফ্লেভার বা এক প্রকারের সুগন্ধ। আর সেটাই ‘কপি লুয়াক’র সুগন্ধ ও দাম বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।

47437-coffee
গন্ধগোকুল বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং সাব-সাহারা এলাকায় দেখা যায়। এরা সাধারণত পোকামাকড় ও ছোট প্রাণী খেতে পছন্দ করে। খেয়ে থাকে মজাদার কফি বীজ, আম ও এ ধরনের ফলও।‘কপি লুয়াক’র উৎপাদক ইন্দোনেশিয়ায় এখন সেজন্য প্রচুর গন্ধগোকুল পালন করা হচ্ছে। আর সেই প্রাণীটির মাধ্যমে উৎপাদন করা হচ্ছে সবচেয়ে দামি কফি।

resize74925

গন্ধগোকুল বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং সাব-সাহারা এলাকায় দেখা যায়। এরা সাধারণত পোকামাকড় ও ছোট প্রাণী খেতে পছন্দ করে। খেয়ে থাকে মজাদার কফি বীজ, আম ও এ ধরনের ফলও।‘কপি লুয়াক’র উৎপাদক ইন্দোনেশিয়ায় এখন সেজন্য প্রচুর গন্ধগোকুল পালন করা হচ্ছে। আর সেই প্রাণীটির মাধ্যমে উৎপাদন করা হচ্ছে সবচেয়ে দামি কফি।

coffee-luak

গন্ধগোকুলের ইংরেজি নাম সিভেট বা সিভেট ক্যাট বলে ‘কপি লুয়াক’ ‘ক্যাট পুপ কফি’ বা ‘সিভেট ক্যাট কফি’ নামেও পরিচিত।বিশ্ববাজারে ৫০০ গ্রাম ‘কপি লুয়াক’র দাম ১০০ ডলার থেকে ৬০০ ডলার পর্যন্ত, যেখানে ৫০০ গ্রাম সাধারণ কফির দাম ৩ থেকে ১০ ডলার পর্যন্ত রাখা হয়। আর বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর ‘কপি লুয়াক’ উৎপাদন হয় ২৫০ কেজি থেকে ৫০০ কেজি, যেখানে সাধারণ কফি প্রতিবছর উৎপাদন হয় ৯০০ মিলিয়ন টন।

kobi

উৎপাদকরা কথায়, সাধারণত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অভিজাত হোটেলগুলো চড়া দাম দিয়ে এ কফি কিনে নেয়। আর তারা এই কফি দেয় বিলাসী অতিথিদের।