আমাদের দ্বীন এক, প্রভু এক, কিতাব এক; তাহলে আমরা সমস্ত মুসলমান কি এক হতে পারিনা? – কাবা শরীফের মহামান্য ইমাম ড. খালেদ আল গামেদী

আমাদের দ্বীন এক, প্রভু এক, কিতাব এক, তাই গোটা পৃথিবীর মুসলমানদেরকে নিজেদের পারস্পারিক মতবিরোধ ত্যাগ করে ঐক্যের আহ্বান জানালেন কাবা শরীফের মহামান্য ইমাম ড. খালেদ আল গামেদী। শুক্রবার ইসলামাবাদের বাদশা ফয়সাল মসজিদে জুমার খুতবায় পাকিস্তান সফররত মহামান্য ইমাম এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, সরকারের পূর্ব ঘোষণামতে শুক্রবার থেকে ইসলামাবাদে ‘নেজামে সালাত’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। ফলে ইসলামাবাদের সকল মসজিদে একই সময়ে নামাযের আযান ও জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সেসময় শহরের দোকানপাট, বিপনী বিতান ও অফিস আদালতে নামাযের জন্য ২০-২৫ মিনিট কর্মবিরতী থাকবে।

কাবা শরীফের মহামান্য ইমাম সাহেবের ইমামতিতে অনুষ্ঠিত জামাতে অংশ নেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনূন হোসাইন, কেন্দ্রীয় ধর্মমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ ইউসূফ, রাজধানীর গণ্যমাণ্য ও নেতৃস্থানীয় লোকজনসহ হাজার হাজার নারী-পুরুষ । ড. খালেদ নামাযপূর্ব খুতবায় আরো বলেন, ইসলামী শিক্ষা ছেড়ে দেয়ার দরুন আজ বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা ব্যর্থ হচ্ছে। আমরা ঐক্যের পরিবর্তে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছি। ১৪ শ বছর পূর্বে হজরত মুহাম্মদ সা. আমাদেরকে এই শিক্ষা ও নির্দেশনাই দিয়েছিলেন যে, আমরা সবাই যাতে আল্লাহর রশিকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করি। কোনধরনের বিভক্তির স্বীকার না হই। দুঃখজনকভাবে আজ আমরা সদা বহুদা বিভক্ত হয়ে পড়েছি।

যার ফলাফল ভোগ করছে আজ অমুসলিম জাতি। মুসলমানের সম্মান তাকওয়ার ভিত্তিতে, বংশ ও বর্ণের ভিত্তিতে নয়। তিনি আরো বলেন, রাসুল সা. জাতপাত ও বর্ণবৈষম্য সমূলে ধংস করেছিলেন এবং আল্লাহর কাছে মুত্তাকী ও পরহেজগার ব্যক্তিই সবচেয়ে প্রিয় ও সম্মানিত বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।মুসলমানদেরকে কুরআন-হাদিসের শিক্ষা চর্চা করতে হবে। আজ আমাদেরকে আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশমতে জীবন পরিচালিত করতে হবে। উপস্থিত হাজার হাজার জনতাকে স্মরণ করিয়ে শায়খ গামেদী বলেন, ইসলাম পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও উত্তম ধর্ম। মুক্তির একমাত্র পথ ইসলাম। সূত্র: পাকিস্তানের দৈনিক উর্দু পয়েন্ট