ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল হ্যাক করে সেখানে আজান সম্প্রচার

ইসরাইলের দু’টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সিস্টেম হ্যাক করে আজান সম্প্রচার করার ঘটনা ঘটেছে। আজান সম্প্রচারের সময় টিভি স্ক্রিনে মসজিদুল আকসাসহ ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর ছবি দেখানো হয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, মঙ্গলবার ইসরাইলের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টু এবং চ্যানেল টেনের সম্প্রচার মঙ্গলবার রাতে ৩০ সেকেন্ডের জন্য হ্যাক করা হয়। ৩০ সেকেন্ডের এই সম্প্রচারে হ্যাকাররা, ‘ইসরাইলের সৃষ্ট অগ্নিকান্ড আল্লাহর একটি শাস্তির বার্তা’ বলে প্রচার করে।

উল্লেখ্য যে, ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে আইন পাসের মাধ্যমে মাইকে আজান দেওয়া নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাশ করতে যাচ্ছে।

যদিও আজানের জন্য মাইকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করণ সম্পর্কিত আইনের নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট স্বয়ং রুভেন রিভলিন। মঙ্গলবার এ বিলের নিন্দা জানান এবং এ ধরনের আইন লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন।

এএফপি’র খবরে বলা হয়, প্রাথমিক আলোচনার জন্য খসড়া আইনটি বুধবার ইসরাইলের পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়েছে। এ আইন পাস ও কার্যকর হলে তা ইসরাইল ও পূর্ব জেরুজালেমের সব মসজিদের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে স্পর্শকাতর আল আকসা মসজিদকে এ আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি শুক্রবার ইহুদিদের বিশেষ ধ্বনি সাবাথ সাইরেনকেও এর বাইরে রাখা হয়েছে।

বহু অালোচিত এ বিলের প্রতিবাদে প্রেসিডেন্ট রিভলিন মঙ্গলবার জেরুজালেমে নিজ বাসভবনে ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে সভার আয়োজন করেন। সভায় তিনি বলেন, ‘কোনো একটি বিশেষ গোষ্ঠীর বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে আঘাত করতে পারে, এমন কোনো আইন করাটা লজ্জাজনক হবে।’

প্রেসিডেন্টের মতে আইনটি অপ্রয়োজনীয়। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাওমি তোলেদানো জানান, যে ইস্যুর ধুয়া তুলে আইনটি করা হচ্ছে, শব্দদূষণসংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের মাধ্যমেই সেটার সমাধান সম্ভব বলে প্রেসিডেন্টের বিশ্বাস। প্রয়োজনে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করার কথাও বলেন প্রেসিডেন্ট।

অবশ্য ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের ভূমিকা শুধুই আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও মুসলিম নেতারা ইসরাইলের এমন পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে বলেছেন, ইসরাইলের এমন অবস্থান মানুষের ধর্ম এবং বিশ্বাসের স্বাধীনতা চর্চা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।