একটি ভুল ভাবনা : বাসন চেটে খেলে কি কন্যা সন্তান হয়?

এক ভাইকে বাসন চেটে খাওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা হলে সে বলল, ‘প্লেট চেটে খেলে তো কন্যা সন্তান হয়’। আরেকজন মন্তব্য করলেন, চেটে খাওয়া তো অভদ্রতা ও দারিদ্রে্যর আলামত। (নাউযুবিল্লাহ)

ধারণা দুটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অর্থহীন ও নিতামত্মই মূর্খতা। দ্বীনী বিষয়ে গাফলত ও অজ্ঞতার কারণেই যে এ ধরনের কথাবার্তা মানুষ বলে থাকে তাতে কোনো সন্দেহ  নেই। কেননা সন্তান দেওয়া না দেওয়া বা কাউকে ছেলে সন্তান দেয়া, কাউকে মেয়ে সন্তান দেয়া তো সম্পূর্ণ আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাধীন। বাসন চেটে খাওয়ার সাথে এর কী সম্পর্ক? আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) ‘‘আসমান যমীনের রাজত্ব আল্লাহ্রই; তিনি যা চান সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র দেন। অথবা তাদেরকে পুত্র-কন্যা উভয়ই দান করেন। আবার যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। তিনি সবকিছুই জানেন, সব কিছুই করতে পারেন।’’ -সূরা শুরা ৪২ : ৪৯-৫০ এ ধরনের ধারণার আরেকটি বাজে দিক হলো, তাতে জাহেলী যুগের দুর্গন্ধ প্রকাশ পাচ্ছে। জাহেলী যুগে কন্যা সন্তানের কথা শুনলেই মানুষের মুখ কালো হয়ে যেত। (সূরা নহল ১৬ : ৫৮) আল্লাহ তো কন্যা সন্তানের সংবাদকে ‘সুসংবাদ’ বলে ব্যক্ত করেছেন।

আর সম্ভবত দ্বিতীয় মন্তব্যটি ঐ ভদ্রলোক এজন্য করেছেন যে, তার জানা নেই; বাসন চেটে খাওয়া রাসূলের সুন্নত। কারণ যার হৃদয়ে তিল পরিমাণ ঈমান আছে, বিষয়টি সুন্নত জানার পরও সে ব্যক্তি এ ধরনের মন্তব্য করতে পারে না। কোন্টা ভদ্রতা ও আদব-কায়দা আর কোন্টা অভদ্রতা ও বেআদবী তা তো রাসূলের কাছ থেকেই শিখতে হবে।

হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন তোমাদের কেউ খানা খাবে সে যেন তার আঙ্গুল চেটে খায়। আর লোকমা (খাদ্যদ্রব্য) পড়ে গেলে সে যেন ময়লা দূর করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা রেখে না দেয়। সাথে সাথে তিনি আমাদেরকে পাত্র চেটে খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কারণ, তোমাদের জানা নেই খাদ্যের কোন্ অংশে বরকত রয়েছে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৬; জামে তিরমিযী, হাদীস  ১৮০৩

আল্লাহ আমাদের সকলকে সহীহ ইলম ও সমঝ দান করুন। আমীন

Leave a Reply

Your email address will not be published.