একটি মাত্র ক্যামেরা কিনতে ৩ কর্মকর্তা যাচ্ছেন জার্মানি !

দেখুন কতটা সিরিয়াস তারা ! কতটা গুরুত্তের সাথে নিয়েছে এ ব্যাপারটা। এ রকম গুরুত্তের সাথে সব সরকারী কাজ হলে দেশ উন্নতীর শিখরে আরোহন করবে !

প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম কাভারেজের জন্য এক সেট (একটি ডিজিটাল ক্যামেরা আর সেই ক্যামেরার কিছু যন্ত্রপাতি) ক্যামেরা আনতে জার্মানি যাচ্ছেন তথ্য মন্ত্রণালয় ও চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের পদস্থ তিন কর্মকর্তা।  আর এ ঘটনা নিয়ে দেশের সোশাল মিডিয়া বেশ সরগরম হয়েছে। ভাগ্যবান এই তিন কর্মকর্তা হলেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নূরুল ইসলাম ও অধিদপ্তরের উপপরিচালক শিপলু জামান।

এ বিষয়ে সোশাল মিডিয়া ফেসবুকে একজন নিজের প্রোফাইলে লিখেছেন, জ্বি আপনার-আমার টাকা দিয়েই এই বিদেশ ভ্রমণ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নিলুফার নাজনীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে আমদানিতব্য একসেট ডিজিটাল ক্যামেরা ও সরঞ্জামাদির প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশনের জন্য তারা জার্মানিতে যাচ্ছেন। চিঠির তথ্য অনুযায়ী তাদের ব্যয়ভার আয়োজক সংস্থা (যাদের কাছ থেকে ক্যামেরা নেওয়া হচ্ছে) বহন করবে এবং এতে বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সংশ্লেষ নেই। নিলুফার নাজনীনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনের পর তারা শুধু ভ্রমণের আদেশ সম্পর্কিত চিঠি ইস্যু করে থাকেন।

152506camera_kalerkantho_pic

কেন একটি ক্যামেরা আনতে তিনজন কর্মকর্তাকে জার্মানি যেতে হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর বা ডিএফপির মহাপরিচালক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান বিবিসিকে বলেন সংশ্লিষ্ট কম্পানি থেকে শিপমেন্টের আগে তাদের তাতে স্বাক্ষর করতে হবে। তিনি বলেন, ডিএফপি অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করছে। তার অংশ হিসেবেই ডিজিটাল সিনেমাটোগ্রাফি আনা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম কাভারেজের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা প্রয়োজন। যাতে হাই পাওয়ার লেন্স সহ আরও অনেক আধুনিক উপকরণ থাকবে। তিনি জানান ক্যামেরার মূল অংশের দাম পড়েছে ৩৫ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা) যেটি অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে কর্মকর্তারা ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের প্রতিনিধি ছিল। এখন তারা সেটির শিপমেন্টের আগে নিশ্চিত হবে যে সঠিক জিনিস দেওয়া হচ্ছে কি-না এবং ডিএফপির ডিজিটাইজেশনে নতুন প্রকল্পের জন্যও ধারণা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

তারা কি প্যাকেট করছে এবং ঠিকমতো দিচ্ছে কি-না সেটাও তো দেখার বিষয় আছে। কিন্তু একটি ক্যামেরার জন্য তিনজন কর্মকর্তার যারা ক্যামেরা বিষয়ক এক্সপার্টও নন তাদের জার্মানি সফর কতটা যৌক্তিক এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএফপি মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশে ওই ধরনের এক্সপার্ট নেই। বরং দুই বছর কাজ করে আমাদের ধারণা সম্পর্কে আমরা আত্মবিশ্বাসী। লাইটিং, পোস্ট এডিটিং সহ নানা বিষয়ে আমরা ধারণা নেবো এই সফরে। আগের বছর দুজনকে পাঠিয়েছিলাম কিন্তু তাদের রিপোর্ট আমাকে সন্তুষ্ট করেনি। তাই ভাবলাম এবার নিজেরাই যাবো। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যসচিব মরতুজা আহমেদ বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম রয়েছে মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। তারাই মূলত এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু একটি ক্যামেরার জন্য তিনজন কর্মকর্তার জার্মানি যাওয়াটা আদৌ প্রয়োজন কি-না জানতে চাইলে তিনি ডিএফপির মহাপরিচালকের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার পরামর্শ দেন। এদিকে সোশাল মিডিয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই চিঠির অংশ বিশেষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা বিষয়টিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কেউ বলছেন, ‘তিনজন তো কম হয়ে যায়। পুরো বিমান নিয়েই ক্যামেরা কিনতে যাওয়া উচিত ছিল।’