একাদশে ভর্তিতে দুই কোটি টাকা বাড়তি আদায়

রাজধানীর ধানমণ্ডির আইডিয়াল কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার জন্য আগে পোশাকের জন্য নির্ধারিত টাকা দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীকে, এরপর ভর্তি ফি। কেউ এ ‘বিধি’ মানতে না চাইলে তাকে ভর্তি করা হচ্ছে না। যারা পোশাকের টাকা পরে দেওয়ার শর্তে ভর্তি হয়েছে তাদের ভর্তি বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আরো জানা গেছে, ভর্তির ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার বাইরে অতিরিক্ত ৬৩০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাড়তি প্রায় দুই কোটি টাকা আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ। এ কলেজে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন ২২০০টি। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১০০০ করে এবং মানবিক বিভাগে ২০০টি। অল্প কিছু আসনে ভর্তি বাকি রয়েছে। সম্প্রতি এক সরকারি কর্মকর্তা, যিনি একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশ না করে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার সন্তানকে ওই কলেজে ভর্তির জন্য ডাকা হয়। ১৫ হাজার ৩৩০ টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়। আমি টাকা নিয়ে ভর্তি করাতে গেলে তারা আরো চার হাজার ৪০০ টাকা পোশাকের জন্য চায়। বলে এটা বাধ্যতামূলক। আমার কাছে অতিরিক্ত টাকা ছিল না। তারা ভর্তি করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। আমি সরকারি কর্মকর্তা—এ পরিচয় দিলে দু-এক দিনের মধ্যে পোশাকের টাকা জমা দিতে বলা হয়। তিন-চার দিন পরে গত ২৮ জুন পোশাকের টাকা জমা দিতে যাই, তখন বলা হয়, এখন আর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনার সন্তানের ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। ভর্তির টাকাও ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

ব্যাপারটি নিয়ে আমি ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে গেলে তিনিও জানান, যারা আগে সব ধরনের টাকা পরিশোধ করেছে তাদেরই রাখা হয়েছে। আপনি যেহেতু পোশাকের টাকা জমা দেননি তাই আপনার ছেলেকে ভর্তি করানো যাবে না। আর টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো সিস্টেমও আমাদের কলেজে নেই।’ জানা গেছে, সব শিক্ষার্থীকে দুই সেট পোশাক বাবদ চার হাজার ৪০০ টাকা দিতে হচ্ছে। অথচ রাজধানীর অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নটর ডেম কলেজেও দুই সেট পোশাক, ব্যাগ ও স্টেশনারির জন্য এক হাজার ৬০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।

এ হিসাবে কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫৫ লাখ টাকা বাড়তি আয় করেছে। ভর্তি ফি বাবদও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি কলেজ শিক্ষার্থীপ্রতি সর্বোচ্চ ৯ হাজার টাকা নিতে পারবে। কিন্তু আইডিয়াল কলেজে নেওয়া হচ্ছে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা। এ হিসাবে প্রায় এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা বাড়তি আদায় করা হয়েছে। অধ্যক্ষ মো. গোলাম আহসান বলেন, ‘যাতে সবার ইউনিফর্ম এক হয় সে জন্য কলেজ থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কাউকে বাধ্য করা হচ্ছে না। কেউ না নিতে চাইলে সে বাইরে থেকেও কিনতে পারবে। আর ভর্তি ফি গভর্নিং বডি নির্ধারণ করে দেয়। তারা যেটা বলে আমাদের সেটাই আদায় করতে হয়। আমাদের অনেক ধরনের ব্যয় আছে।

মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত টাকা নিলে আমাদের জন্য খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে।’ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. আশফাকুস সালেহীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কলেজ ইউনিফর্ম সরবরাহ করতে পারে। তবে সেখান থেকে লাভের আশা করা যাবে না। শিক্ষার্থীরা যাতে বাজারদরের চেয়ে কম দামে পায় সেটাই বরং দেখা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। দুটি ব্যাপারেই অভিভাবকরা যদি বোর্ডে অভিযোগ করেন তাহলে আমাদের ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হয়।

কলেজটি অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকলে আমরা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিব।’