এক বাবার বুক ফাটা কান্না ! ৫ মিনিট সময় দিয়ে পড়ুন।

সবাই 5 মিনিট সময় নিয়ে পুরো লেখাটা একবার পড়ুন এবং শেয়ার করুন। মন্তব্য করুন।
কলেজ থেকে ফেরার পথে বাসে উঠে দেখি লোকজন ভরে গেছে। পিছনের দিকে পঞ্চাষ উর্ধো, এক লোকের পাশে বসে পড়লাম।

লোকটা খুবই বিনয়ী বসা মাত্র আমাকে বলে,
তুমি চাইলে জানালার কাছে বসতে পারো।
বললাম না আঙ্কেল অসুবিধা নেই।

কিছুদুর যেতেই বাস থেমে গেলো,
যাত্রাবাড়ির চিরপরিচিত জ্যাম,
পাশের লোকটা আমাকে বললো,
মা তোমার কাছে পানি আছে?
একটু মুখে দিবো।
আমার সাথে পানি না থাকায় বললাম,
স্যরি আঙ্কেল আমার কাছে পানি নেই।

লোকটা উদাস নয়নে আকাশের দিকে তাকালো।
একটুপর আমাকে বলা শুরু করলো,
তোমার মতো আমারও একটা মেয়ে আছে,
হলে থাকে আমি থাকি লালবাগ,
ওখানে আমার একটা মুদি’র দোকান আছে।
মেয়েটার মা নেই,
আমার ছোট ছেলেটা থাকে তার চাচার সাথে।

আমি প্রতিদিনই আমার মেয়ের সাথে কথা বলি,
মেয়ে আমাকে জানায় সে ক্লাসে আছে,
অথবা লাইব্রেরীতে আছে.
নইলে পড়ছে আমি খুব খুশী হই,
এত খুশী হই যে চোখেপানি চলে আসে।

মেয়ে টাকে আমি অনেক পড়ালেখা করাতে চাই,
যতটুকু সামর্থ্য আছে তা দিয়েই।
মেয়ে’র কোন আশাই আমি অপূর্ন রাখিনি,
যা চেয়েছে তাই দেয়ার চেষ্টা করেছি।

গতকাল বিকেল থেকে মেয়েটার ফোন বন্ধ,
তাই আমি হলের এক টিচারকে ফোন দেই,
সেই টিচার খোজ খবর নিয়ে দেখে.
আমার মেয়ে ৫ দিন হলো হলে নেই,
সে নাকি বাড়ি যাবার জন্য ছুটি নিয়েছে।

কথাটা শোনা মাত্র আমি টিচারকে বললাম,
আমার ভুল হয়েছে স্যার,
আমি বাড়িতে ফোন না করেই.
আপনাকে ফোন করেছি আমি সত্যি দুঃখিত।
তারপর লোকটি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
আমার মেয়ে বাড়িতে যায়নি,
কালও ওর সাথে আমার কথা হয়েছে,
সে নাকি ক্লাসে ছিলো।
গতরাতে আমি মোটেও ঘুমাতেপরিনি,
অনেক খোজ খবর নেবার পর.
মেয়ের বান্ধবী’র কাছে জানতে পারলাম.
আমার মেয়েটা নাকি এখন কক্সবাজার আছে।

এক ছেলের সাথে ৭ দিনের জন্য বেড়াতে গিয়েছে।
তোমাকে কথা গুলো কেন বলছি জানি না মা,
তুমি কি বিরক্ত হচ্ছো?
আমি মাথা নেড়ে না বললাম।
মাথাটা কাজ করছে না,
কাউকে কিছু জানাতেও পারছি না,
মেয়ের সন্মান চলে যাবে।
তাই তোমাকে বলে একটু হালকা হলাম,
কিছু মনে করোনা মা।
এই কথা বলে লোকটা আবার.
আকাশের দিকে তাকালো।
আমি স্পষ্ট দেখলাম লোকটা কাদঁছে,
তার শরীর কেপে কেপে উঠছে।
আমি মলিন চোখে এক বাবার কান্না দেখলাম,
মেয়ের সন্মান চলে যাবার ভয়ে.
একজোড়া স্বপ্নমাখা চোখের কান্না দেখলাম।
বাবার বুকের চিৎকার আর্তনাদ যেন শুনতে পেলাম আমি,

আর সাথে সাথে আমার মার মুখটা ভেসে উঠলো,
আমি জীবনের অসংখ্য বারের মতো.
আবারও মনে মনে মা কে প্রমিজ করলাম,
এমন কিছু করবো না যেন তারা কষ্ট পায়।
মা বাবার মতো আমাদের কে ভালবাসতে পারবে বলেন।

সবাইকে বিশেষ অনুরোধ করছি শেয়ার করবেন।