এবার কি সত্যিই অঘটন ঘটতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে?

আভাস দিচ্ছে শেয়ারবাজার। ইঙ্গিত করছে ইন্টারনেটের সার্চ ইঞ্জিন। তা হলে কি অঘটনই ঘটতে চলেছে মার্কিন মুলুকে?
আগামী মঙ্গলবার আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ভোট দেবেন ১৪ কোটি ৬৩ লাখ রেজিস্টার্ড ভোটার। কিন্তু তার মধ্যে দু’কোটি ৪০ লাখ জন ইতিমধ্যেই ভোট দিয়ে দিয়েছেন। আমেরিকায় প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে ভোটের ৪ থেকে ৫০ দিন আগে পর্যন্ত ভোট দেয়ার সুযোগ রয়েছে। এ বার এর মধ্যেই ১৪ শতাংশ ভোট পড়ে হেছে। যা গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ।
এই পরিসংখ্যানটি আপাত ভাবে নিরীহ। কিন্তু হিলারি শিবিরের কপালে ভাঁজ ফেলেছে ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগ্‌ল। মার্কিন সংস্থাটি সূত্রে খবর, গত কয়েক দিনে ‘কী ভাবে আমি আমার ভোট পাল্টাতে পারি’— এই মর্মে লাখ লাখ সার্চ করা হয়েছে।
আর তাতেই প্রমাদ গুনছেন ডেমোক্র্যাটরা। কানেক্টিকাট, মিশিগান, মিনেসোটা, মিসিসিপি, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভ্যানিয়া ও উইসকনসিন— এই সাতটি রাজ্যে ভোট দেয়ার পরে আবার নিজের মত পরিবর্তন করা যায়। এর মধ্যে মিসিসিপি বাদে বাকি ছ’টা রাজ্যই ডেমোক্র্যাটদের ঘাঁটি বলে পরিচিত। এফবিআই ফের হিলারির ই-মেইলের তদন্ত করবে, এই ঘোষণার পরেই নাকি পরিবর্তনের এই হিড়িক! আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মত পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। ফলে এই সব রাজ্যের আগাম ভোটাররা তাদের মত পাল্টাতে পারেন, এই আতঙ্ক ছড়িয়েছে ডেমোক্র্যাট শিবিরে। ট্রাম্প নিজেও টুইট করে বলেছেন, ‘‘এখনো সুযোগ আছে। মত পাল্টে ফেলুন।’’
গোদের ওপর বিষফোঁড়া শেয়ার বাজারের ধস। পরিসংখ্যান বলছে, সাধারণত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমেরিকায় যতবার ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীই ফের ক্ষমতায় এসেছেন, চাঙ্গা থেকেছে শেয়ার বাজার। কিন্তু যখনই প্রেসিডেন্ট হয়েছেন বিরোধী দল থেকে, শেয়ার বাজার পড়েছে। ৮০ শতাংশেরও বেশি সময়ে শেয়ার বাজারের এই ‘ভবিষ্যৎবাণী’ ফলে গিয়েছে।
এই দুই অশনি সঙ্কেত ভাবাচ্ছে হিলারি ক্লিন্টনকে। তার ওপর পিছু ছাড়ছে না এফবিআই। বুধবার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের নামে ১৫ বছরের পুরনো একটি মামলার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মার্কিন তদন্তকারী সংস্থাটি এফবিআই। প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টন কী ভাবে এবং কেন পলাতক ডেমোক্র্যাট অনুরাগী মার্ক রিচকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, তা নিয়েই ১২৯ পাতার তদন্ত রিপোর্ট বেরিয়েছে এফবিআই-এর ওয়েবসাইটে। ২০০১-এর মামলা। আর তার রিপোর্ট পেশ হল ২০১৬-র নভেম্বরে। মাঝখানে পেরিয়ে গেছে ১৫টা বছর। এত দিন কেন ওই ফাইল প্রকাশ করা হয়নি, প্রশ্ন তুলেছে মার্কিন কূটনীতিক মহলের একাংশ।
হোয়াইট হাউসের দখল নিতে মরিয়া হিলারি শিবির তবু সুর চড়িয়েই রাখছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে প্রচারে সুর পাল্টেছেন হিলারি নিজেও। গত কয়েক দিন ধরে তিনি ব্যস্ত ছিলেন এফবিআই-এর সমালোচনাতেই। এ বার নিশানায় শুধুই রিপাবলিকান প্রতিপক্ষ। ট্রাম্পের সমালোচনায় হিলারি মঙ্গলবার টুইট করেন, ‘‘মহিলাদের যিনি এ ভাবে দেখেন আর অসম্মান করেন, তিনি কোনোভাবেই প্রেসিডেন্ট পদের যোগ্য নন।’’
সব বাধা টপকে হোয়াইট হাউসকেই চাঁদমারি করছে হিলারি শিবির। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের পাঁচটি সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষার উপর ভিত্তি করে আজই নিজেদের তরফে বিশেষ সমীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে ব্রিটেনের প্রথম সারির একটি সংবাদমাধ্যম। যেখানে বলা হয়েছে, এগিয়ে রয়েছেন হিলারিই। ট্রাম্পের থেকে অন্তত ২ শতাংশ বেশি সমর্থন পেয়ে। সূত্রের খবর, ভোট সুইংয়ের সব চেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে ফ্লোরিডা, ওহায়ো, পেনসিলভ্যানিয়ায়। যার প্রত্যেকটিতেই এখন চষে বেড়াচ্ছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মঙ্গলবার আবার দরাজ সার্টিফিকেট পেয়েছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওহায়োর এক সভায় ট্রাম্পকে ‘অতুলনীয় অযোগ্য’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘আমায় যদি ভালো প্রেসিডেন্ট বলে মনে করেন, তার জন্য কিন্তু হিলারির অনেকটাই অবদান রয়েছে। অথচ একটি বারের জন্যও উনি নিজের কৃতিত্ব দাবি করেননি।’’ শেষ দফায় আগ্রাসী প্রচারের ক্ষেত্রে ওবামার এই প্রশংসা হিলারিকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে বলেই মনে করছে ডেমোক্র্যাটদের একাংশ। যার প্রমাণও মিলেছে মঙ্গলবার। মহিলাদের যৌন হেনস্থা এবং তাদের ধারাবাহিক ভাবে অসম্মান করাটা ট্রাম্পের ‘৩০ বছরের ঐতিহ্য’ বলে ফ্লোরিডার এক সভায় মন্তব্য করেন হিলারি।
আর হিলারি এলে?
কালো ঘোড়া হিসেবে দৌড় শুরু করা ট্রাম্প সেই সম্ভাবনার কথা মানতে চাইছেন না। তার দাবি, ‘‘হিলারি প্রেসিডেন্ট হলে দেশে সঙ্কট আসবেই। যত দিন তিনি ক্ষমতায় থাকবেন, তার প্রশাসনে প্রভাব ফেলবে ই-মেইল তদন্ত।’’