এয়ার এরাবিয়ার চার লাখ টাকা অর্থদণ্ড, লাগেজ অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানি ।

কাণ্ডজ্ঞানহীন লাগেজ অব্যবস্থাপনা ও যাত্ঈদের অবর্ণনীয় ভোগান্তির অভিযোগে এয়ার এরাবিয়াকে চার লাখ টাকা জরিমানা করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভ্রাম্যমান আদালত।

চারজন যাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটায় ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫৩ ধারায় এ আদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন জর্দান প্রবাসী কুমিল্লার রোজিনা আক্তার, মিশর প্রবাসী কিশোরগঞ্জের ইকরাম হোসেন, মিশর প্রবাসী নীলফামারীর ইন্তাজুল হক এবং দুবাই প্রবাসী নোয়াখালীর আবু সাঈদ।

অভিযোগমতে তারা বিভিন্ন তারিখে এয়ার এরাবিয়ার ফ্লাইটে ঢাকা আসলেও তাদের লাগেজ আসেনি। এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে তাদেরকে ফোন নম্বর ধরিয়ে দিয়ে পরে খবর নিতে বলেন এবং লাগেজ আসলে তাদেরকে খবর দেয়া হবে মর্মেও জানান। কিন্তু গতপরশু পর্যন্ত প্রদত্ত ফোন নম্বরে অভিযোগকারীগণ কর্তৃক শত চেষ্টা করলেও কেউ ফোন ধরেনি। গতকাল ১৮ জুলাই এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে অভিযোগকারীদেরকে ফোন করে তাদের ব্যাগ আসছে বলে জানান এবং এসে নিয়ে যেতে বলেন। অভিযোগকারীরা বিভিন্ন জেলা থেকে রাতে এয়ারপোর্টে পৌঁছে এয়ারলাইন্সের কোন লোকজন পাননি। এদিক লস্ট এন্ড ফাউন্ডে এয়ার এরাবিয়ার শতাধিক লাগজের স্তুপ খুঁজেও তাদের ব্যাগ পাননি। লস্ট এন্ড ফাউন্ডের কর্মকর্তারা জানান, এয়ার এরাবিয়ার লেফ্ট বিহাইন্ড ব্যাগের পরিমাণ অত্যধিক বেশি হওয়ায় এর বিলিবন্টেজ এয়ারলাইন্সটিই করছে, লস্ট এন্ড ফাউন্ডকে তালিকা করে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। ভুক্তভোগিরা এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তাকে ফোন করলে তিনি তাদের পরের দিন আজ সকাল ১০টায় আসতে বলেন।

অভিযোগকারী রোজিনা জানান, তার মত আরো অনেক মহিলা যাত্রিসহ বহুভুক্তভোগী একইরকম ফোন পেয়ে ব্যাগ নিতে এসে সারারাত খোলা আকাশের নীচে এয়ারপোর্ট এলাকায় বৃষ্টিতে ভিজে মশার কামড়ে রাত কাটান। আজ বিকাল তিনটা পর্যন্ত এয়ারলাইন্সের কোন কর্মকর্তা আসেননি। তিনটার পর এক কর্মকর্তা এসে তাদেরকে শতাধিক লাগেজের স্তুপ খুঁজে তাদের লাগেজ আসছে কিনা দেখতে বলেন। তারা অনেক খোঁজাখোঁজি করে দেখলেন তাদের লাগেজ আসেনি। লাগেজ না আসার পরেও তাদেরকে এভাবে ফোন করে আনিয়ে আর্থিক ও মানসিক হয়রানি করে আবার পরে যোগাযোগ করতে বললে তারা হতভম্ব হয়ে পড়েন। তাদের কান্নাকাটি দেখে পাশের এক ভদ্রলোক একটা মোবাইল নম্বর দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করতে বলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফ মুঠোফোনে জানান, তিনি ব্যক্তিগত চিকিৎসায় হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ভুক্তভোগী রোজিনা ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে তাদের খোলা আকাশের নীচে রাত্রিযাপনসহ সম্পূর্ণ ঘটনার বর্ণনা দেন। ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফ তাদেরকে তিনি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ করে তাৎক্ষণিক রওয়ানা দিয়ে এয়ারপোর্টে এসে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন এবং উপস্থিত চারজন অভিযোগকারীর বক্তব্যের সত্যতা পাওয়ায় এয়ারলাইন্সটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার আইনের ৫৩ ধারার অপরাধের জন্য প্রত্যেক অভিযোগের বিপরীতে এক লক্ষ টাকা করে মোট চার লক্ষ টাকা অর্থদন্ডের আদেশ দেন এবং একই আইনের ৭৬ ধারা অনুযায়ী জরিমানার ২৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্তদের প্রদানের এবং ৭৫ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদানের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দ্রুত যাত্রিদের লাগেজ এনে যথানিয়মে বুঝিয়ে দেয়ারও নির্দেশনা প্রদান করেন।

ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফ বলেন, সম্প্রতি এয়ারলাইন্সটির লেফ্ট বিহাইন্ড লাগেজের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় লাগেজ ব্যবস্থাপনা অনেকটা ভেঙ্গে পড়েছে। গত ১৫ জুলাই একটি ফ্লাইটে অসংখ্য লাগেজ না আসায় উত্তেজিত যাত্রিরা বিমানকর্মীদের উপর চড়াও হওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে। অনেক লাগেজ একসাথে পরে আসায় তারা কোন লাগেজ আসছে এবং কোনটি আসে নাই, এই হিসেবও রাখতে পারছেনা। যাত্রিদের ঢালাও ফোন করে জানিয়ে দেয় লাগেজ আসছে, তারপর যাত্রিদেরকেই স্তুপ থেকে তাদের লাগেজ সনাক্ত করতে বলে। এতে দেখা যায় অনেক যাত্রির লাগেজ তখন পর্যন্ত না আসলেও কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার কারণে যাত্রিরা এসে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে জরিমানার অর্থ আদায় হয়েছে এবং প্রত্যেক অভিযোগকারী ২৫ শতাংশ হারে ২৫ হাজার টাকা করে বুঝে নিয়েছেন।