কওমি মাদরাসার নেতৃত্ব কারা দেবে, তা যদি সরকার ঠিক করে দেয় তাহলে কওমি মাদরাসায় দালাল গোষ্ঠী তৈরি হবে

কওমি মাদরাসার নেতৃত্ব কারা দেবে, তা যদি সরকার ঠিক করে দেয়, তাহলে কওমি মাদরাসায় দালাল গোষ্ঠী তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও বেফাক নেতা মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক। বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মিলনায়তনে বেফাক আয়োজিত ওলামা সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ভিডিওটি দেখুনঃ 

[mom_video type=”youtube” id=”fJD4c0lA1EE”]
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বেফাক (বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড) বরাবরেই মতোই দাবি করে আসছেÑ কওমি মাদরাসার স্বকীয়তা বজায় রেখে আমরা সনদের সরকারি স্বীকৃতি চাই। এজন্য সরকার স্বকীয়তা বিনষ্ট করে স্বীকৃতি দিতে চাইলে আমরা নিতে পারি না। সনদের স্বীকৃতি দেয়ার সাথে সাথে আলেমদের মাধ্যমে গঠিত বোর্ডগুলোকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং এসব বোর্ডের সাথে সরকারের দাফতরিক কোনো সমম্পর্ক থাকবে না।

তিনি বলেন, কওমি মাদরাসার নেতৃত্ব যদি সরকার নির্বাচন করে দেয়Ñ তা আওয়ামী লীগ সরকার, জামায়াত ছাড়া বিএনপি সরকার, জামায়াত সমর্থিত বিএনপি সরকারÑ যে কোনো সরকারের মাধ্যমে এই দ্বার উন্মোচিত হলে কওমি মাদরাসায় সরকারের দালাল গোষ্ঠী তৈরি হবে। তাই এমন স্বীকৃতি আমরা চাই না।
এদিকে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে শোলাকিয়া ঈদগার ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদকে প্রধান করেন ৭ সদ্যদের একটি কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে গত ৯ অক্টোবর তা বাতিল করে বেফাকের চেয়ারম্যান চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা শাহ আহমদ শফীকে প্রধান করে ১৭ সদস্যের পুরনো ‘বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশনকে’ সক্রিয় করতে চাইছে সরকার।
এই শিক্ষা কমিশনের গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার বর্তমান সময়ে যে ১৭ সদস্যের কমিটি সচল করতে চাইলে, এতে বেফাকসহ ওলামাগণ সন্তুষ্ট নন। কারণ এই কমিটিতে যাদের নাম রয়েছেÑ তা বেফাক ও শীর্ষ আলেমদের প্রস্তাবিত নাম নয়। ২০১৩ সালে এই কমিটি সরকার ঘোষণা দেয়ার আগে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ আর মুফতি রুহুল আমীনকে নিয়ে নিজের মতো একটি কমিটি দাঁড় করিয়েছে। এখানে বেফাক ও শীর্ষ আলেমদের পাশ কাটিয়ে ১৭ সদস্যের তালিকা করা হয়েছে। তাই এই বিতর্কিত কমিটি বেফাক কর্তৃপক্ষ কতটুকু মেনে নিবেÑ তা ভেবে দেখার বিষয়।
আশরাফুল মাদারিসের প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কালামের সভাপত্বিতে তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালে প্রকাশিত কওমি মাদরাসা শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছিলÑ কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়িত হবে একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে। আর এর গঠন প্রক্রিয়া হবেÑ এ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, মহাসচিব, মাদরাসগুলো থেকে ৭ জন নির্বাহী সদস্য এবং দাফতরিক কাজ পরিচালনার জন্য একজন উপসচিব পর্যায়ে সরকারি আমলা নিয়োগ দেবে সরকার। এখনও যদি সরকার এভাবে চিন্তা করেন, তাহলে বেফাক ও এদেশের আলেমগণ এই স্বীকৃতি মেনে নেবে না, নিতে পারে না।