কীভাবে বজ্রপাতের এই অসাধারণ ছবিটি তুলেছিলেন ফটোগ্রাফার র‍্যান্ডি ওলসন?

এ-ধরনের একটি ছবি দেখলেই প্রথমেই যে শব্দদুটি আমরা বলে থাকি তা হলো ‘নাইস শট’! কীভাবে এমন অসাধারণ ছবি তোলা যেতে পারে? বজ্রপাত তো আর হরহামেশাই ঘটে না কিংবা লম্বা সময় ধরেও নয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের দুঃসাহসী ফটোগ্রাফার র‍্যান্ডি ওলসনের জীবনের সেরা ছবিগুলোর অন্যতম এটি। ছবিটি চলতি মাসে ‘ন্যাট জিও ফটোগ্রাফি অব দ্য মান্থ’ নির্বাচিত হয়েছে। তার কাছেই শোনা যাক এই ছবির পেছনের ইতিহাস :

এটি আমার সর্বশেষ অ্যাসাইনমেন্টের শেষ দিনটিতে তোলা ছবি। আমি তখন নেব্রাস্কার উড নদী এলাকায় সারস পাখিদের একটি বিশেষ প্রজাতি ‘স্যান্ডিল’দের নিয়ে কাজ করছিলাম। যেসব স্থানে এই প্রজাতির সারস দেখতে পাওয়া যায় উড নদী সেই অল্প কয়েকটি স্থানের মধ্যে একটি। তারা সাধারণত অগভীর পানিতে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ছবির সেই স্থানটিতে পাখিগুলো এসে বসত এবং একত্রিত হতো। তাদের কলকাকলিতে ভাঙত সন্ধ্যার নীরবতা।

সেই সন্ধ্যায় প্রচণ্ড বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। দিনের আলো কমে আসছিল। প্রায় চার লাখের অধিক সারস পাখি আবহাওয়ায় বিভ্রান্ত হয়ে রাত্রিযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আলোর অভাবে ফটোগ্রাফির চিন্তা বাদ দিয়ে আমিও ক্যাম্পে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন একটা অদ্ভূত দৃশ্য চোখে পড়ল। বিজলীর আলোয় উড়তে থাকা সারস পাখিগুলো অনেকটা অন্ধের মতো এসে ঝুপঝাপ মাটিতে পড়তে লাগল। বিষয়টি আমার ফটোগ্রাফিক আগ্রহের সৃষ্টি করে। আমি আবারও ক্যামেরা অন করি। ক্যামেরায় শুধু ৩০ সেকেন্ড এক্সপোজার দিয়ে আমি শাটারে চাপ দেই। একসঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-উড়ন্ত পাখি আর নিচে তাদের আবাসস্থল ধরা পড়ে আমার ক্যামেরার ফ্রেমে।

সত্যি বলতে কি, আমি এর আগে কখনোই এতগুলো বিষয়বস্তু নিয়ে বজ্রপাতের ছবি তুলিনি। আবহাওয়া এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশের কারণে এই ছবিটি তুলতে আমি সক্ষম হই। ছবিটির দিকে ভালো করে তাকালে দেখতে পাবেন উড়ন্ত পাখিগুলোকে দুটো দেখাচ্ছে। যার পেছনে কারণ হিসেবে রয়েছে বিদ্যুতের কেরামতি। আরও দেখতে পাবেন কীভাবে বজ্রবিদ্যুৎ মেঘ থেকে একেবারে মাটিতে এসে ঠেকে। মোটামুটি বজ্রবিদ্যুৎ সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা এই ছবি থেকে পাওয়া যেতে পারে।

………..ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক অবলম্বনে সত্যজিৎ কাঞ্জিলাল