কোনটি খাবেন? আপেল না পেয়ারা ?

দিনে একটি করে আপেল খেলে নাকি ডাক্তারের রুটিরুজি বন্ধ হয়ে যাবে। ১৮৮৬ সালে এমন একটা কথার প্রচলন ঘটে। ডাক্তারদের মনে ভয়ডর কিছু আছে বলে মনে হয় না। প্রায় ১৩০ বছর পর এখনো কিছুটা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ডাক্তাররা সে কথারই পুনরাবৃত্তি করছেন। মার্কিন মুলুকে সে সময় আপেলের মতো পেয়ারার প্রচলন বোধ হয় ছিল না। নইলে এই ফল নিয়ে আরেক কাঠি সরেস কোনো মন্তব্য নিশ্চয় তাঁরা করতেন।
আপেল হোক আর পেয়ারা, দুটি ফলে খাদ্য উপাদান একই। পার্থক্যটা উপাদানের পরিমাণে। পুষ্টিগুণের বিচারে আপেলের চেয়ে তাই পেয়ারা এগিয়ে আছে বলে জানালেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি ও পথ্যবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ।
নাশতায় একটিই যথেষ্ট
নাশতায় একটি পেয়ারা কিংবা আপেলই যথেষ্ট। কারণ, ক্যালরি বেশি থাকায় শক্তিও বেশি। আপেল বিদেশি ফল, সে তুলনায় পেয়ারা আমাদের দেশেই উৎপাদিত হয়। দামও তুলনামূলক কম। দুটি ফলেই প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। ফল হিসেবে কাঁচা তো বটেই, সালাদ বা কাস্টার্ড বানিয়েও আপেল ও পেয়ারা খাওয়া যায়। আরও অনেক খাবারেই এই দুটি ফলের ব্যবহার আছে।
সংরক্ষণের প্রক্রিয়া

দুটি ফলই কেটে খোলা বাতাসে রাখলে কিছুটা কালচে বর্ণ ধারণ করে। আয়রনসমৃদ্ধ খাবার হওয়ায় এমনটা হয় বলে জানান শামসুন্নাহার নাহিদ। কাটার পর যদি সংরক্ষণ করতেই হয়, তবে তাঁর পরামর্শ হলো মুখবন্ধ কাচের বাটি কিংবা বয়ামে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। এতে পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন থাকবে।

সতর্কতা

যাঁরা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য আপেল-পেয়ারা দুটিই ভালো। কারণ, এতে পটাশিয়ামের পরিমাণ কম। বাজারে কয়েক জাতের আপেল পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে সবুজ আপেল ভালো। কিডনির রোগীদের পেয়ারার বিচির অংশ বাদ দিয়ে খেতে হবে। পাকা পেয়ারায় ক্যালরির পরিমাণ বেশি, শক্তিটাও তাই বেশি। তবে যাদের রক্তে চিনির পরিমাণ বেশি, তাদের জন্য পাকার চেয়ে বরং কাঁচা পেয়ারা ভালো।

প্রতি ১০০ গ্রাম আপেল ও পেয়ারায় নানা খাদ্য উপাদানের পরিমাণ দেওয়া হলো এখানে।

খাদ্য উপাদান                                 আপেল                                পেয়ারা

ক্যালরি                               ৫২                            ৬৮

মোট চর্বি                             ০.২ গ্রাম                      ১ গ্রাম

কোলেস্টেরল                          নেই                           নেই

সোডিয়াম                             ১ মিলিগ্রাম                    ২ মিলিগ্রাম

পটাশিয়াম                            ১০৭ মিলিগ্রাম                 ৪১৭ মিলিগ্রাম

কার্বোহাইড্রেট                         ১৪ গ্রাম                       ১৪ গ্রাম

প্রোটিন                               ০.৩ গ্রাম                      ২.৬ গ্রাম

ভিটামিন এ                           ১%                           ১২%

ভিটামিন বি৬                         ০%                           ৫%

ভিটামিন সি                          ৭%                           ৩৮০%

ম্যাগনেশিয়াম                         ১%                           ৫%

ক্যালসিয়াম                           ০%                           ১%

* শতাংশের হিসাবগুলো প্রতি ২০০০ ক্যালরি ডায়েটের কথা মাথায় রেখে দেওয়া হয়েছে

গ্রন্থনা: মেহেদী হাসান, সূত্র: ইউএসডিএ