গর্ভ থেকেই হাতে হাত রেখে জন্ম ওদের, বন্ধনটা এখনো তেমনি

২০১৪ সালের মাদারস ডে-এর কিছু দিন আগের কথা। হাসপাতালের বিছানায় পড়ে আছেন সারাহ থিস্টেলথওয়েট। গত ৫৭ দিন ধরে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা নিয়ে হাসপাতালেই অবস্থান করছেন। অবশেষে তিনি জন্ম দিলেন যমজ কন্যাশিশুর। তারা পুরোপুরি সুস্থভাবেই জন্ম নেয়।

ওরা গর্ভ থেকে বেরিয়ে আসার পর হতভম্ব হয়ে পড়লের চিকিৎসকরা। সারাহর চিকিৎসক মেলিসা মানকুসোর মুখ থেকে বেরিয়ে এলো, ‘হায় খোদা! ওরা একে অপরের হাত ধরে রয়েছে!’ আসলে তাই ঘটেছিল। দুই বোন একে অপরের হাত ধরে গর্ভ থেকে পৃথিবীর আলো দেখে।

এরপর থেকে সবাই ধরেই নিলেন, ওদের মধ্যে ভালোবাসা থাকবে দেখার মতো। জন্মের সময়ই যারা ভালোবেসে একে অপরের হাত ধরে রেখেছিল, তারা পরবর্তীতেও তেমনটাই থাকবে। সেই থেকে বেড়ে উঠছে যমজ জেনা এবং জিলিয়ান।

সেই সময়কার কথা স্পষ্ট মনে আছে ৩৫ বছর বয়সী সারাহর। বললেন, ওদের হাত ধরে পৃথিবীতে আসার সেই স্মৃতি কখনো ভোলার নয়। আমার স্বামীও এটা দেখে চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি। ওদের জন্মের সময় ওই কক্ষে যত মানুষ ছিলেন কারো চোখ শুকনো ছিল না। জন্মের আগে থেকেই ওরা এ অবস্থায় ছিল। আল্ট্রা সাউন্ড পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে, তারা একে অপরের সঙ্গে কিছু একটা শেয়ার করছে।

আমেরিকার অ্যাকরোন চিলড্রেনস হসপিটালের ফেটাল ট্রিটমেন্ট সেন্টারের পরিচালক ড. মানকুসো জানান, এমন যমজ সত্যিকার অর্থেই বিরল। গর্ভেই তারা একই অ্যামনিয়োটিক স্যাক শেয়ার করেছে। ২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত এই ধরনের যজমদের টিকে থাকার সম্ভাবনা থাকে ৫০ শতাংশ। এমন যমজকে বলা হয় ‘মনো মনো’।

তাই বেশ আশঙ্কা নিয়েই হাসপাতালে পড়েছিলেন মা সারাহ। তাদের ঘরে ১ বছরের পুত্র জ্যাক্সোন রয়েছে। তবে যমজ কন্যার বিষয়টি নিয়ে বেশ উত্তেজনায় ছিলেন স্বামী-স্ত্রী। সেখানে ৫৭ দিন কিভাবে যেন দেখতে দেখতেই চলে যায়। ঠিক ৫৭তম দিনে তাকে সিরাজিয়ান সেকশনে নেওয়া হয় যেখানে ওই যমজের জন্ম হয়। তারা সুস্থ-সবল ছিল। কোনো সমস্যা হয়নি। বরং সবাইকে চমকে দিয়ে একে অপরের হাত ধরে পৃথিবীতে এসেছে।

এখন জেনা এবং জিলিয়ানের বয়স ২ বছর। দুজনের ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠছে। জিলিয়ান হয়েছে ডানপিটে। ওদিকে জেনা বেশ নরম গোছের। কিন্তু তাদের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা দেখার মতো। ঠিক জন্মের সময়কার কথা মনে করিয়ে দেয়।

স্বামী-স্ত্রী বাজার করতে গেলে দুজনকে বাবা-মা ভাগাভাগি করে কোলে রাখেন। বোঝা যায়, দুজনের মনটা খারাপ হয়ে রয়েছে। কারণ তারা আরো কাছাকাছি থাকতে চায়। একজন কান্না করলে অপরজন তাকে থামানোর চেষ্টা করে। ওরা সব সময় একে অপরের দেখাশোনা করে চলেছে।

মা বলেন, জেনা কিছু করলে যদি ধমক দেওয়া হয়, তবে ও বলে এটা জিলিয়ান করেছে। তবে সব সময় তাদের পরিস্থিতি একই ধরনের থাকে। বোঝা যায় না, কখন কার কি হয়েছে।

তারা একই ধরনের খাবার পছন্দ করে, তারা দুজনই সাঁতার কাটতে পছন্দ করে। একই ধরনের খেলনা নিয়ে খেলতে ভালোবাসে।

আসলে জন্ম থেকেই ওরা একে অপরের প্রতি দারুণ ভালোবাসা প্রদর্শন করে আসছে। তাদের বন্ধনটা জন্ম থেকেই বিরল।
সূত্র : পিপল