জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এখনও বন্ধ

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কাজ হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে। বলা হচ্ছে, সার্ভারে ত্রুটির কারণে এ কাজ বন্ধ রয়েছে। ত্রুটি সারানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কবে নাগাদ তা আবার চালু হবে, সে কথা বলতে পারছে না কেউ। ফলে চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে দেশের লাখ লাখ মানুষ। কারণ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ অতি জরুরি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক। অন্তত ১৬ রকমের নাগরিক সেবার জন্য এই জন্ম নিবন্ধন সনদ দরকার পড়ে বলে জানা গেছে। একইভাবে মৃত্যু নিবন্ধন সনদও দরকার পড়ে অনেক কাজে। কিন্তু সেগুলো বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীসহ সারা দেশে গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং এর সনদ প্রদান বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিবন্ধন দেওয়া বন্ধ করে নোটিশও টানিয়ে দিয়েছে। অথচ প্রতিদিন শুধু ঢাকায় সিটি করপোরেশনের ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে গড়ে দুই হাজার মানুষ এ সেবা গ্রহণ করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম এনামুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সার্ভারের গোলযোগের জন্য এ কাজ বন্ধ রয়েছে। আমরা তা মেরামতের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলেছি। আশা করছি খুব দ্রুত এ সেবা আবার চালু করা সম্ভব হবে।’

জানা যায়, আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট পেতে, বিয়ে নিবন্ধনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে, সরকারি-বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় নিয়োগ পেতে, ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে, ভোটার তালিকা তৈরিতে এবং জমিজমা নিবন্ধনে বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম সনদ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০০৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এবং দূতাবাসে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য পৃথক বিধিমালা জারি করা হয়। এ বিধিমালা অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব খুলতে, আমদানি ও রপ্তানি লাইসেন্স পেতে, গ্যাস, পানি, টেলিফোন এবং বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমতি, করদাতা শনাক্তকরণের নম্বর, ঠিকাদারি বা চুক্তির লাইসেন্স, ভবন নকশার অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি, মোটরযানের নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদের প্রয়োজন। অর্থাৎ আইন ও বিধি অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি মোট ১৬টি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এ সনদ জরুরি।

ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণব কুমার ঘোষ বলেন, ‘রাজধানীতে বসবাসকারী অনেক মানুষ প্রতিদিন জরুরি কাজের জন্য নিবন্ধন নিতে আসে। কিন্তু ১৩ দিন ধরে আমরা তাদের সেবা দিতে পারছি না। নানাভাবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি দ্রুত সমস্যা সমাধান করার জন্য। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এ কে এম সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। তিনি বলেছন, খুব দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে দেবেন।’

গত বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজারের সিটি করপোরেশনের অফিসে গিয়ে দেখা যায়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ নেওয়ার জন্য শত শত মানুষ ভিড় করে আছেন। কিন্তু এ সেবা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে- কর্তৃপক্ষ এমন একটি নোটিশ দেয়ালে টানিয়ে দিয়েছে। তা দেখে সেবা নিতে আসা বেশির ভাগ মানুষ হতাশা প্রকাশ করছেন। লালমাটিয়ার বাসিন্দা তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘মেয়ের পাসপোর্ট জরুরি কাজের জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। সে ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগবে। কিন্তু গত দু-তিন দিন ধরে সিটি করপোরেশন অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলে অপারগতা প্রকাশ করছে। এ সমস্যা কবে সমাধান হবে, তাও বলতে পারছে না তারা। তাই মেয়ের পাসপোর্ট করায় বিলম্ব হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.