জীবন বাজি রেখে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের উদ্ধার করলেন মুসলিম বাসিন্দারাই

কার্ফু রয়েছে। টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী। তারই মধ্যে একটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসের তীর্থযাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারাই!

কার্ফু রয়েছে। টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী। তারই মধ্যে একটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসের তীর্থযাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারাই!
আজ ভোরে অমরনাথ-যাত্রীদের নিয়ে একটি বাস বালতাল থেকে জম্মু ফিরছিল। বিজবেহারার কাছে শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়কে সেটির সঙ্গে একটি ট্রাকের ধাক্কা লাগে। ঘটনায় বাসের চালক বিলাল আহমেদ মীর এবং প্রমোদ কুমার নামে এক তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ২৩ জন।

আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাতে এগিয়ে যান অন্তত ৫০ জন স্থানীয় বাসিন্দা। এলাকায় কার্ফু জারি থাকলেও তার পরোয়া করেননি তাঁরা। অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাসপাতালে নিয়ে যান আহতদের। এমনকী, শ্রীনগরের হাসপাতালেও কয়েকজন আহতকে পৌঁছে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির শহর বিজবেহারায় দুই তরুণ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। জনতা-সেনা সংঘর্ষের পর টানা পাঁচদিন কার্ফু জারি রয়েছে সেখানে। তবে এক সাহায্যকারীর কথায়, ‘‘হিংসার মধ্যেও মানবিকতা তো ভুলে যেতে পারি না!’’ যে মানবতায় বিহ্বল এক তীর্থযাত্রী এ কে অরোরা।

মেরঠের বাসিন্দা অরোরা একটি দু’মিনিটের ভিডিওয় বলেছেন, ‘‘মানবতা কী, তা জানতে কাশ্মীরে আসুন। মানবিকতা কী, এই প্রথম চাক্ষুষ দেখলাম। কাশ্মীরের লোকদের নামে অপপ্রচার করবেন না। বরং তাঁদের কাছ থেকে মানবিকতার শিক্ষা নিন।’’

অরোরা জানিয়েছেন, অমরনাথ ফেরত তীর্থযাত্রীদের নিয়ে বেশ কয়েকটি বাসের কনভয় জম্মু ফিরছিল। কিন্তু তাঁদের বাসে দুর্ঘটনার পর বাকি তীর্থযাত্রীদের বাসগুলি দাঁড়ায়নি। তিনি কোনওক্রমে বাস থেকে বেরিয়ে সাহায্যের জন্য আবেদন করলেও সেনা বা তীর্থযাত্রী— কেউই সাড়া দেননি। কিন্তু এগিয়ে এসেছিলেন স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারাই।

বিজবেহারার এই মানবিকতায় আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবাও। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এই তো কাশ্মীরিয়ত। এই তো আসল কাশ্মীর। এই মূল্যবোধকে রক্ষা করতেই হবে আমাদের।’’
রাজ্যের অ্যাম্বুল্যান্সচালকেরা অবশ্য সেই মানবিকতার ছোঁয়া পাচ্ছেন না। কী জনতা, কী সেনা, উভয়পক্ষের প্রাথমিক রোষ গিয়ে পড়ছে তাঁদেরই উপরে। কাশ্মীরের একটি স্থানীয় সংবাদপত্রে কয়েকজন চালকের বয়ান প্রকাশিত হয়েছে। সঙ্গে ছবি। তাতে দেখা গিয়েছে, এক চালক বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথর থেকে বাঁচতে হেলমেট পরে ভাঙা উইন্ডস্ক্রিনের একটি অ্যাম্বুল্যান্স চালাচ্ছেন। মহম্মদ মুজফ্‌ফর ওয়ানি নামে এক চালক বলেছেন, ‘‘এখন গাড়ি চালানোর আগে প্রার্থনা করি। ভয় করে। কী জানি, হয়তো আজই পথে বেরিয়ে মারা যাব।’’