ডুবল গেইল-তরী ডি ভিলিয়ার্স ঝড়ে

শিরোপাপ্রত্যাশী দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এবি ডিভিলিয়ার্সের (১৬২*) ব্যাটিং-তা-ব দেখল ক্রিকেটামোদী। বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি ও ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম ১৫০ রানের মাইলফলকে পৌঁছে রেকর্ড গড়েছেন প্রোটিয়াস অধিনায়ক। ফলস্বরূপ ৪০৯ রানের বিশাল টার্গেট ছুড়ে দেওয়া হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে। পাল্টা জবাব হিসেবে সবাই অধীর অপেক্ষায় ছিল গেইল শোর। গেইল দ্রুত বিদায় নিয়ে সব ফিকে হয়ে যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুটিয়ে যায় ১৫১ (৩৩.১ ওভার) রানে। হেরে যায় ২৫৭ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকার লেগ স্পিনার ইমরান তাহির ৪৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। মজার ব্যাপার হচ্ছেÑ এক ডিভিলিয়ার্সের রানই করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ! ম্যাচ সেরার পুরস্কার ডিভিলিয়ার্সের হাতেই গেছে। বিশ্বকাপে এর আগে ভারত (২০০৭) একই ব্যবধানে হারিয়েছিল বারমুডাকে (টেস্ট খেলুড়ে দেশ নয়)।
বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে (পুল বি) ৬টি করে ম্যাচ খেলবে প্রত্যেকটি দল। ১৪টি (পুল এ ও বি, ২ গ্রুপ) দলের মধ্য থেকে ৮টি দলকে শেষ আটে নিয়ে যাওয়া হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪টি ম্যাচ খেলে ২টিতে জয় পেলেও সমান ২টি ম্যাচে হেরেছে। পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে তারা। ৩ ম্যাচে ২টি জয় ও ১টি পরাজয় নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ডিভিলিয়ার্স কাল ৬৬ বলে ১৬২ রান করে অপরাজিত ছিলেন। টসজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ উইকেটে ৪০৮ রান তোলে। তবে ভারত বিশ্বকাপের মঞ্চে ২০০৭ সালে বারমুডার বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৪১৩ রান তুলেছিল। সেই রেকর্ডের পরেই অবস্থান করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দক্ষিণ আফ্রিকার রানকে বড় করতে সাহায্য করেন হাশিম আমলা (৬৫), ফাফ ডু প্লেসিস (৬২) ও রিলি রোসৌউ (৬১)। ক্যারিবীয়দের সবচেয়ে সফল বোলার গেইল (২/২১)। আন্দ্রে রাসেলও ২ উইকেট পান, তবে রান দিয়েছেন ৭৪।
ডিভিলিয়ার্সের প্রিয় প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্বকাপের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে। সেখানে ডিভিলিয়ার্স ১৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি ও ৩১ বলে সেঞ্চুরি করে পুরনো সব রেকর্ড ভেঙে দেন। এবার বিশ্বকাপে সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে দ্রুততম ১৫০ রান করলেন।
প্রতিবেশী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের পর ভারতের কাছে ১৩০ রানে হেরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই হারের পর এমন জয় দরকার ছিল। আত্মবিশ্বাসী একটা জয়ই পেল প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের প্রত্যাশীরা।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২০তম সেঞ্চুরি পেলেন ডিভিলিয়ার্স। কালকের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৭টি চার ও ৮টি ছক্কায়। বিশেষ করে প্রোটিয়া অধিনায়ক আক্রমণের জন্য পছন্দ করেছিলেন বিপক্ষ দলের কাউন্টার পার্ট জেসন হোল্ডারকে। ১০ ওভারে তিনি মোট ১০৪ রান দেন।
এদিকে বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক আয়ারল্যান্ডের কেভিন ও‘ব্রাইন। ২০১১ সালে তিনি ব্যাঙ্গালুরুতে ৫০ বলে শতরান করেছিলেন। ডিভিলিয়ার্স কাল ৫২ বলে শতরানে পৌঁছেন। তবে ১৫০ রানের মাইলফলকে পৌঁছেন ৬৪ বলে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রেকর্ড ২১৫ রান করেন ক্রিস গেইল। মারলন স্যামুয়েলসও সেঞ্চুরি হাঁকান। গেইল কাল ৩ ও স্যামুয়েলস রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়ে যান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন হোল্ডার (৫৬)। স্পিনার তাহির ক্যারিবীয়দের সুবিধা করতে দেননি। তাহির ছাড়া পেসার কাইল অ্যাবোট ও মরনে মরকেল ২টি করে উইকেট পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.