তাহলে আইএস এর বানানো সব ভিডিও আমেরিকার তৈরি সাজানো নাটক?

এতদিন পরে সব তথ্য ফাঁস হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদের ‘ভুয়ো’ ভিডিওর নেপথ্যে পেন্টাগন। খরচ করেছে ৫৪০ মিলিয়ন ডলার!! কালো পতাকায় আরবিতে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ লেখা। আর তার সামনে কালো কাপড়ে আপাদমস্তক আবৃত একদল উন্নত মানের আগ্নেয়াস্ত্রধারী। এদের মধ্যে একজনের হাতে ধারালো ছুড়ি,  আর তার সামনে কমলা রঙের গাউন পড়িয়ে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা এক সাদা চামড়ার ব্যক্তি, যাকে হত্যা করা হবে গলা কেটে।

পূর্বের মত কালো কাপড়ে শরীর ও মুখ ঢাকা একদল লোক। হাতে উদ্যত আগ্নেয়াস্ত্র। সামনে লাইন করে উপুর করে হাত পিছমোড়া করে বেঁধে রাখা একদল বন্দী। পরের ছবিতে একই সঙ্গে চালানো গুলিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া মাথার খুলি।

file-2

বিগত ২/৩ বছর ধরে  খবরের কাগজে, টিভির পর্দায় এবং ইন্টারনেটের দৌলতে এমন ছবি বহুবার দেখেছে বিশ্ব। ছবিগুলি দেখে এক নিমেষেই বলে দেওয়া যায়, এগুলি উগ্র ইসলামপন্থী শরীয়তের শাসন প্রতিষ্ঠাকামী সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইসিসের কর্মকাণ্ড। যারা সিরিয়া ও ইরাকে কর্মরত। এভাবেই পাশ্চাত্য সহ তাদের বিরোধীদের হত্যা করে চলেছে রোজ। যত বারই এমন নতুন নতুন ছবি প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে, মানুষ ক্ষোভে-দুঃখে-আতঙ্কে সিউড়ে উঠে বলে উঠেছে, এরা আর যাই হোক মানুষ হতে পারে না। বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা আত্মপক্ষ সমর্থনে সাফাই গাওয়া চেষ্টা করেছে, আইসিস ইসলাম বিরোধী, এদের কাজ ইসলাম সমর্থিত নয়; ইত্যাদি ইত্যাদি। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইসলামের মা-মাসি করে গেছে ইসলামের ছিদ্রান্বেষণকারীরা। অনেকেই প্রচারিত ভিডিও গুলি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিল সেগুলির সত্যতা নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও অনেক ছবি শেয়ার করে লোকেরা দেখাতে চেষ্টা করেছে এরা আসলে ইহুদি বা খৃষ্টান বা অন্য কেউ ইত্যাদি অনেক তত্ব।

তবে সম্প্রতি যে তথ্য সামনে এসেছে তা যে কোনও লোকের ঘুম উড়িয়ে দেবে তা বলা যায়। তবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চরিত্র সম্পর্কে যারা সম্যক পরিচিত তাদের কাছে খবরটি আশ্চর্যজনক মনে হবে না। আর সেই তথ্য হল আইসিস তথা ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া বা ইসলামিক স্টেট এর নামে প্রচারিত তথাকথিত সন্ত্রাসবাদের ভিডিও চিত্রের নির্মাণের পিছনে রয়েছে একটি অখ্যাত পিআর ফার্ম। আর সেই ফার্মকে কোটি কোটি ডলার অর্থ দিয়ে কাজ করিয়ে নিয়েছে খোদ আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। এজন্য তারা আধ বিলিয়ন ডলার অর্থ খরচ করেছে। Bell Pottinger নামের ওই পিআর ফার্মটির দায়িত্ব ছিল এই সব ভুয়ো ভিডিও বানানো এবং সেগুলির প্রচারের ব্যবস্থা করা। এজন্য নিয়মিত পেন্টাগন ও সিঅাইএ কর্তাদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে চলত তারা।

আরবি ভাষায় প্রচলিত নিউজ নেটওয়ার্কের আদলে তারা ভিডিও ফুটেজগুলি তৈরী করত।ইচ্ছা করেই সেগুলিকে অত্যন্ত নিম্নমানের বানানো হতো। ইরাকে কর্মরত মার্কিন সেনা অফিসারদের সঙ্গে থেকেই এই কাজ তারা করে আসছে বলে জানিয়েছে ডেইলি বিস্ট পত্রিকার সাংবাদিক ক্রফটন ব্ল্যাকা্ন্ড এবং অবিগালী ফিল্ডিং স্মিথ। তথ্য ফাঁস করেছে ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নামের এক সংস্থা। ২০০৪ সালে ইরাক আগ্রাসনের অব্যবহিত পরেই ইরাকে নিয়ে আসা হয় Bell Pottinger এর লোকদের।

ব্রিটিশ ও ইরাকি নাগরিক মিলিয়ে প্রায় ৩০০ জন লোককে তারা ইরাকে নিয়োগ করে মিথ্যা ও আমেরিকার পছন্দমতো সংবাদ তৈরী করা ও প্রচার করার জন্য। গড়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার একাজে নিয়োগ করে আমেরিকা। পেন্টাগনের সঙ্গে বেল পটিঞ্জারের আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য হাতে পেয়েছে ব্যুরো। বিশেষ করে ২০০৭ সালের মে মাস থেকে ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত পুরো অার্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে বলে দাবী করেছে সংস্থাটি। খরচের বেশিরভাগটাই কাজে লাগানো হতো প্রোডাকশন ও ডিস্ট্রিবিউশন খাতে। তবে নিয়োগপ্রাপ্তরা জানতে পারতো না কিকাজে ও কি উদ্দেশ্যে তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। মার্টিন ওয়েলস নামে পটিনঞ্জারের এক প্রাক্তন কর্মী সাক্ষাৎকারে সেকথা জানিয়েছেন।

খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দা শুরু হয়েছে খোদ আমেরিকার নাগরিকদের মধ্যে থেকেই। অনলাইন মাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন তারা।

উৎস: http://readersupportednews.org/opinion2/277-75/39464-pentagon-paid-millions-to-create-fake-terrorist-videos , https://www.rt.com/usa/361385-pentagon-pr-firm-terrorist-videos/