তুরস্কের পাঠ্যক্রম থেকে ‘ডারইউন তত্ত্ব’ বাদ, বাংলাদেশে কবে?

তুরস্কে স্কুলের বই থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে ডারউইনের তত্ত্ব। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিকুলাম বোর্ডের প্রধান আলপাসলান দারমাস এক ঘোষণায় বলেছেন, নবম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জীববিজ্ঞানের পাঠ্যবই থেকে চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ সংক্রান্ত একটি অনুচ্ছেদ আগামী বছর থেকে বাদ দেয়া হবে।
দারমাস বলেন, নবম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের এসব বিতর্কিত বিষয় বোঝার বয়স হয় নি এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরের আগে এগুলো পড়ানো হবে না। কিন্তু এর তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছে তুরস্কের অনলাইন ফোরামগুলোতে। এসব ফোরামের আলোচকরা বলছেন, ‘এটা ধর্মান্ধতা। এ ধরণের পরিবর্তন হলে বিজ্ঞান বা জীববিদ্যা পড়ানো হবে কিভাবে।’
একজন মন্তব্য করেছেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার যে আধুনিক বিজ্ঞানের সবচেয়ে মৌলিক তত্ত্বকে বিতর্কিত বলা হচ্ছে।’
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান ইতিমধ্যেই জাতীয় পাঠ্যক্রমে পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন। আগামি সপ্তাহে এটা প্রকাশ করা হচ্ছে।
তুরস্কের ১ লক্ষ শিক্ষকের একটি ইউনিয়নের প্রধান ফেরাই এতেকিন এদোয়ান, তিনি বলছেন, সৌদি আরবের পর তুরস্ক হবে মাত্র দ্বিতীয় দেশ যারা বিবর্তনবাদ পড়ানো বন্ধ করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, এমনকি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানেও বিবর্তন ও ডারউইনের ওপর মোট ৭১ ঘণ্টার পাঠদান করা হয়।
জানা যাচ্ছে, তুরস্কের একটি রক্ষণশীল এবং সরকারের ঘনিষ্ঠ শিক্ষক ইউনিয়ন এসব পরিবর্তনের প্রস্তাব করে। উল্লেখ্য, চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের মূল কথা হলো, সকল প্রজাতির প্রাণীরই কিছু অভিন্ন পূর্বপুরুষ থেকে ক্রমাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে উদ্ভব ঘটেছে। কিন্তু ধর্মীয় পরিমণ্ডলে এই তত্ত্বকে স্বীকার করা হয় না। বহু ধর্মেই সৃষ্টিতত্ত্বে বলা হয়, ঈশ্বর মানুষ সৃষ্টি করেছেন। বিবিসি।