দাড়ি না কাটালে আত্মহত্যা : হুমকি স্ত্রীর

স্বামী দাড়ি না কাটালে আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের এক ইমামের স্ত্রী। স্ত্রীর এমন হুমকিতে বিপাকে পড়েছেন উত্তরপ্রদেশের মেরঠের একটি মসজিদের ওই ইমাম। স্ত্রীর হুমকির কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠিও লিখেছেন তিনি। খবর কলকাতার আনন্দবাজারের। শুধু তাই নয়, স্ত্রীর যে এখনই কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজন সে কথাও জেলা প্রশাসককে লিখতে ভোলেননি তিনি। উত্তরপ্রদেশে মসজিদে ইমামের কাজ করেন আরশাদ বদরুদ্দিন (৩৬)। ২০০১ সালে হাপুর জেলার পিলখুয়া শহরে সাহানা নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই দ্বন্দ্ব দেখা দেয় এ নব-দম্পতির মাঝে। সংসারে অশান্তির পেছনে আরশাদের লম্বা দাড়িকে দায়ী করেছেন ওই নারী।

লম্বা দাড়ি মোটেই পছন্দ নয় সাহানার। এ নিয়ে আরশাদকে বহুবার বলেছেন। সাহানার যুক্তি, শাহরুখ-সালমানরাও তো এই ধর্মের, তারা যদি ‘ক্লিন সেভড’ থাকতে পারেন, তা হলে আরশাদ কেন নয়! এ ছাড়া তার বয়সও তো বেশি নয়। স্ত্রীর এই আবদার মানতে কোনোভাবেই রাজি নন আরশাদ। তার অভিযোগ, একটা স্মার্টফোন কিনে তার স্ত্রী দিন-রাত পরপুরুষের সঙ্গে চ্যাট করেন। আর এই স্মার্টফোনই তার স্ত্রীর মাথাটা খারাপ করে দিয়েছে। আরশাদ বলেন, ‘আমি একজন ইমাম। আর ইমামের দাড়ি রাখাটাই নিয়ম। এই কথাটা বার বার স্ত্রীকে বোঝাতে চেষ্টা করি।

কিন্তু কিছুতেই সে শুনতে চাইছে না।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের চার সন্তান। তারাও বড় হচ্ছে। আমি যদি দাড়ি কেটে ফেলি, ছেলেরাও দাড়ি রাখবে না। আর এটা নিয়মবিরুদ্ধ।’ পুরো বিষয়টি আরশাদ যখন সাহানাকে  বার বার বোঝানোর চেষ্টা করেন, ততই বেঁকে বসেন তিনি। ঈদের ঠিক পরের দিনই হুমকি দেন, আরশাদ দাড়ি না কাটলে তিনি সন্তানদের নিয়ে আত্মহত্যা করবেন।

অশান্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাহানা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন। কিন্তু আরশাদ দেখে ফেলায় দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। সাহানার এই জিদের কাছে হার মানতে রাজি নন আরশাদ। স্ত্রীর মাথা থেকে ‘দাড়িভূত’ তাড়াতে শেষমেশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।