‘নিখোঁজ’ কলেজ ছাত্রী থানায় এসে হাজির ।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে এক মাস ধরে নিখোঁজ সন্দেহভাজন এক কলেজ ছাত্রী গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্বেচ্ছায় থানায় এসে হাজির হয়েছে। তার নাম নুরুন নাহার ইরা। সে সরকারি শ্রীনগর কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। পরিচয় পেয়ে তাকে তাত্ক্ষণিক আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ওই ছাত্রী এক মাস কোথায় ছিল এ নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে থানায় গিয়ে ওই ছাত্রী পুলিশকে জানায়, তার নিখোঁজের ব্যাপারে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় এ জন্য সে একটি সাধারণ ডায়েরি করতে এসেছে।

এর আগে নিখোঁজ ওই কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে ‘জঙ্গি সম্পৃক্ততা’ রয়েছে—কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া কয়েক দিন আগে ছাত্রীর পরিবার জানায়, সে পবিত্র স্থানে রয়েছে এবং ভালো আছে। তাকে খোঁজাখুঁজি করে লাভ নেই। শুধু তাই নয়, গতকাল ছাত্রীর বাবা ইয়াকুব আলী ও মা শামীমা বেগম কয়েকটি টিভি চ্যানেল ও অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিকদের কাছে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘তাঁদের মেয়ে বিদেশে জঙ্গি মিশনে যেতেই বাড়ি ছেড়েছে।’

ওই ছাত্রী গত ১৯ জুন নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এর ২০ দিন পর গত ১০ জুলাই তাঁর মা শামীমা আক্তার শ্রীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি করার পর পুলিশ তাঁদের বাসা থেকে কিছু ধর্মীয় বই উদ্ধার করে।

ইয়াকুব আলী জানান, তাঁর মেয়ে কোনো কারণ ছাড়াই তাঁর মেয়ে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায়। কলেজে যাওয়ার কথা বলেই ওই দিন বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ইরা। এরপর আর ফেরেনি।

গতকাল ইরার পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া একটি ছবির সূত্র ধরে মাঠে নামে পুলিশ। ছবিতে দাড়িওয়ালা এক যুবকের সঙ্গে ইরা ও তার আরো দুই বান্ধবী রয়েছে। ওই যুবকের সন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, তার নাম সিরাজুল ইসলাম নয়ন (৩৫)। সে পাবনার বর্জনাথপুর গ্রামের আ. হামিদের ছেলে।

সিরাজুল ইসলাম বর্তমানে সমষপুর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ফজলুল হক হান্নুর মালিকানাধীন আহমেদ গ্রুপের কর্মকর্তা।

গতকাল দুপুর ২টার দিকে পুলিশ সিরাজুল ইসলামকে শ্রীনগর থানায় হাজির করার জন্য আহমেদ গ্রুপের কর্ণধারকে অনুরোধ করলে সিরাজুল ইসলামকে ওই প্রতিষ্ঠানের একটি গাড়িতে করে তার কয়েকজন সহকর্মীসহ গুলশান থেকে শ্রীনগর পাঠানো হয়। সিরাজুল ইসলাম থানায় পৌঁছানোর আধ ঘণ্টা আগে ইরা স্বেচ্ছায় থানায় এসে হাজির হয়।  শ্রীনগর থানার ওসি সাহিদুর রহমান জানান, ওই কলেজ ছাত্রী এই এক মাস কোথায় ছিল এ নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।