পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে

পবিত্র হজের আগে শেষ শুক্রবার ছিল গতকাল। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে (কাবা শরিফ) জুমার নামাজ আদায় করেন সারা বিশ্ব থেকে আসা লাখ লাখ হজযাত্রী। এর পরই পবিত্র হজ পালন করতে সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় পরে নিয়ত করে তাঁরা রওনা হন মিনার উদ্দেশে। মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে মিনা। হজযাত্রীদের কেউ গাড়িতে, কেউবা হেঁটে মিনায় পৌঁছান। হজের অংশ হিসেবে তাঁরা ৭ থেকে ১২ জিলহজ—এ কয়দিন মিনা, আরাফাতের ময়দান, মুজদালিফায় অবস্থান করবেন। ৮ জিলহজ মিনায় সারা দিন থাকবেন। ৯ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। আরাফাত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে রাত যাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন হাজিরা। ১০  জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরবেন তাঁরা।

মিনায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে মক্কায় পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। তাওয়াফ, সাঈ শেষে মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান এবং তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন। মক্কা থেকে মিনায় যাওয়ার পথে হজযাত্রীদের মুখে ছিল তালবিয়া ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ানিন’মাতা লাকা ওয়ালমুল্ক্, লা শারিকা লাকা।’ কেউ কেউ পড়ছিলেন দোয়ার বই। পবিত্র হজ পালন করতে এ বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১৩ লাখ ২৩ হাজার ৫২০ জন মুসল্লি মক্কায় পৌঁছাছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মিনা এখন যেন তাঁবুর শহর। চারদিকে তাঁবু আর তাঁবু।

হাজিরা এই তাঁবুতে অবস্থান করছেন। তাঁবুগুলো দেখতে চৌচালা ঘরের মতো। ভেতরে পর্যাপ্ত আলো আছে। এই তাঁবুতে শোয়া-বসা ও নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে শৌচাগার ও পানির কল। আছে টেলিফোন সংযোগ। মিনায় কিছু দূর পরপরই রয়েছে হাসপাতাল। হাজিদের সেবায় সেখানে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক ও নিরাপত্তাকর্মী আছেন। আল্লাহর মেহমানদের যাতে কষ্ট না হয়, সে জন্য মিনায় যাওয়ার সব রাস্তা যানজটমুক্ত রাখা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.