ফেসবুক লাইভ সম্প্রচার : টিভি দেখার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাচ্ছে?

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা নিয়ে প্রচণ্ড বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আর এর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ফেসবুকের লাইভ সম্প্রচার। টিভির তুলনায় এ তাৎক্ষণিক সম্প্রচার অনেকাংশে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে বিপুল দর্শকের কারণে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার। গত বুধবার মার্কিন পুলিশ মিনেসোটার ফ্যালকন হাইটস-এ ফিল্যান্ডো ক্যাস্টাইলকে হত্যা করে একটি ট্রাফিক স্টপেজে। এ সময় তার বান্ধবী ছিলেন সঙ্গে। ডায়মন্ড রেইনল্ডস সে সময় তার মোবাইল ফোন থেকে ফেসবুকের অ্যাপ চালু করে ঘটনাটির পরবর্তী পর্যায় ফেসবুকে ব্রডকাস্ট করে দেন। আর এ রক্তাক্ত ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বের অসংখ্য মানুষ প্রত্যক্ষ করে। পুলিশ কর্তৃক হত্যার ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। রক্তাক্ত সেই দৃশ্য সবার দেখার উপযোগীও ছিল না। তার পরেও বহু মানুষ তা দেখে। এ ঘটনার পরদিন অসংখ্য প্রতিবাদী মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। আর এ ঘটনা রূপ নেয় সহিংসতায়। পরবর্তী একটি সহিংস ঘটনায় ডালাসে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা খুন হন। একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সে ঘটনাও লাইভ দেখায়। এ ঘটনাগুলো ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার হওয়ায় দেখা যায় প্রতিটি ঘটনাই দর্শক ৫.৪ মিলিয়নেরও বেশিবার দেখেছে।

টিভির সঙ্গে তুলনা করতে গেলে দেখা যায়, গত সপ্তাহে এবিসি ওয়ার্ল্ড নিউজের দর্শক সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে আট মিলিয়ন। ফেসবুক এপ্রিলে লাইভ সার্ভিস চালু করলেও তা ঠিক কোন উদ্দেশ্যে তৈরি, তা অনেকের কাছেই অস্পষ্ট ছিল। কিন্তু এখন কয়েকটি ঘটনার পর ফেসবুকের এ সার্ভিসটির উদ্দেশ্য ক্রমে স্পষ্ট হচ্ছে। ফেসবুকের এ উদ্যোগকে পরবর্তীতে টিভির লাইভ সম্প্রচারের প্রতিদ্বন্দ্বী বলেই মনে করছেন অনেকে। আর এ ঘটনা অদূর ভবিষ্যতে টিভির ভিতকেই কাঁপিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর কারণ, টিভির তুলনায় ফেসবুকের মতো লাইভ সম্প্রচার বেশ কিছু সুবিধা দেয়। এর একটি হলো তাৎক্ষণিকভাবে সম্প্রচার সুবিধা, যা টিভি চ্যানেলগুলোর পক্ষে সম্ভব নয়। এছাড়া টিভি চ্যানেলগুলো নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটায়, যা ফেসবুকের লাইভ-এ সম্ভব নয়। ফলে এটি জনপ্রিয়তা লাভ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।