বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার । যাত্রী ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ ।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে যাত্রী এবং বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যতীত কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর থানার পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের নিয়মিত সদস্য ছাড়াও অতিরিক্ত আরও দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

১ জুলাই গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর যেকোনো ধরনের নাশকতা ও সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় বিমানবন্দর এলাকায় নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে বিমানবন্দরে প্রবেশ এবং বাইরে দুপাশের রাস্তাতেই বসানো হয়েছে বিমানবন্দর থানা-পুলিশের চেকপোস্ট।
দেখা যায়, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও আর্মড পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে ব্যস্ত বিমানযাত্রীদের তল্লাশিতে। গাড়ি থামিয়ে বিমানযাত্রীদের গাড়ি ও লাগেজ তল্লাশি করা হচ্ছে। যাত্রী ব্যতীত কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের নিতে আসা স্বজনদেরও। তবে অবতরণ করা যাত্রীদের নিতে আসা যানবাহনের সঙ্গে এক স্বজনকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু হেঁটে আসা কেউই ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন না।

যানবাহন ছাড়া স্বজনদের নিতে আসা লোকজনকে মূল সড়কের পাশেই পুলিশের দেওয়া প্রতিবন্ধকতার সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বিমানবন্দরের মূল প্রবেশপথ ছাড়াও হ্যাঙ্গার গেট, বিএফসিসি গেটসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর গেটে যাত্রীদের গাড়ি ও লাগেজ চেক করা হচ্ছে।
বন্দরের মূল ফটকে দায়িত্বরত বিমানবন্দর থানার সহকারী উপপরিদর্শক বিকাশ কুমার পাল প্রথম আলোকে বলেন, পুরো বিমানবন্দর এলাকায় বিমানবন্দর থানা-পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অনেক টিম নিরাপত্তার কাজ করছে। গুলশানে জঙ্গি হামলার রাত থেকেই বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

উত্তরা মডেল টাউন ১ নম্বর সেক্টরের ছাপরা মসজিদসংলগ্ন বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট এলাকায় গিয়ে একই চিত্র দেখা যায়। দায়িত্বরত আর্মড পুলিশের একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, এই গেট দিয়ে বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা প্রবেশ করছেন। বিশেষভাবে ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস (সিএনএফ) সদস্যরা বন্দরে প্রবেশের জন্য এই ফটক ব্যবহার করছেন। পরিচয়পত্র ব্যতীত কাউকেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
আবদুর রশিদ সরকারের ছোট ভাই সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ঢাকা বিমানবন্দরে নামার কথা সকাল ১০টায়। গাজীপুর থেকে এসে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেডের সামনে ভাইয়ের অপেক্ষায় প্রায় এক ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থাকা আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশ বলল ভেতরে যাওয়া নিষেধ। তাই এখানেই দাঁড়িয়ে আছি।’

বন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে আবদুর রশিদের মতো এমন অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থাকছেন। অপেক্ষমাণ মানুষের দাবি, গাড়ি ছাড়া বন্দরে আসায় তাঁদের এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা তল্লাশি করে অন্তত একজন স্বজনকে হলেও ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।