বিশ্ব ইজতেমা শুরু হতে না হতেই ৫ মুসুল্লির ইন্তেকাল

টঙ্গীর তুরাগ তীরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ৫২ তম বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা। শুক্রবার ফজরের নামাযের পর মাওলানা ওবায়দুল খোরশেদ এর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অর্ধশতাধিক দেশের কয়েক হাজার বিদেশি মেহমান ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৭টি জেলার মুসুল্লিরা এই পর্বে অংশ নিচ্ছেন। দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুম্মার নামাজ। নামাজে ইজেতমার আশেপাশের এলাকা থেকে মুসুল্লিরা অংশ নেবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

এদিকে, গতকাল সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ৫ মুসুল্লির মৃত্যু হয়েছে। এদের অনেকে বার্ধক্যজনিত ও অসুস্থতায় ভুগে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

নিহতরা হলেন, মানিকগঞ্জের সাহেব আলী (৩৫) কক্সবাজারের মো: হোসেন আলী (৬৫), বৃহস্পতিবার সকালে ময়মনসিংহের নান্দাইলের মারুয়া গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে মো. ফজলুল হক (৫৬), বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা সদরের খেজুরডাঙ্গা এলাকার মৃত আব্দুস সোবাহানের ছেলে আ: আব্দুস সাত্তার (৬০) এবং সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলার নিজবন্নী এলাকায় মো: জানু ফকির(৭০) ।

ইজতেমার মূল বয়ান মঞ্চ থেকে জ্যেষ্ঠ মুরুব্বিরা আগত মুসুল্লিদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভাষায় আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশিত ইসলামী বিধানের উপর দিক নির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করছেন। প্রথম পর্বে দেশের ১৭টি জেলা থেকে আগত মুসুল্লিরা ২৭টি খিত্তায় অবস্থান করে ভোর থেকেই বয়ান শুনছেন। এর মধ্যে ১ থেকে ৫ নম্বর খিত্তায়- ঢাকা জেলা, ৬ থেকে ৮ নং খিত্তায় টাঙ্গাইল জেলা, ৯ থেকে ১১ নং খিত্তায় ময়মনসিংহ জেলা, ১২নং খিত্তায় মৌলভীবাজার জেলা, ১৩নং খিত্তায় বি-বাড়িয়া জেলা, ১৪নং খিত্তায় মানিকগঞ্জ, ১৫ নং খিত্তায় জয়পুরহাট, ১৬ নং খিত্তায় চাপাইনবাবগঞ্জ, ১৭ নং খিত্তায় রংপুর, ১৮ ও ১৯ নং খিত্তায় গাজীপুর, ২০ নং খিত্তায় রাঙ্গামাটি, ২১ নং খিত্তায় খাগড়াছড়ি, ২২ নং বান্দরবন, ২৩ নং খিত্তায় গোপালগঞ্জ, ২৪ নং খিত্তায় শরীয়তপুর,২৫ নং খিত্তায় সাতক্ষীরা এবং ২৬ ও ২৭ নং খিত্তায় যশোর জেলার মুসল্লীরা অংশ নিচ্ছেন।

ইজতেমার নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পরিমান আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জা্নেিয়ছে পুলিশ প্রশাসন।

তিনদিন ব্যাপি বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব আগামি ১৫ জানুয়ারি রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। চার দিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব এবং ২২ জানুয়ারি আখেরি মেনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।