ভবিষ্যতের গুগল হবে বাংলাদেশে – জয়

মেধার মূল্যায়ন এবং উপযুক্ত সুযোগ সুবিধা পেলে বাংলাদেশে গুগল-ফেইসবুকের মতো প্রতিষ্ঠান হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলছেন, এজন্য সবার আগে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের সমাপনী অনুষ্ঠানে জয় বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান অ্যাপল কম্পিউটার্স, গুগল, ফেইসবুক। এদের জমি নেই, বিরাট ফ্যাক্টরি নেই, এদের একমাত্র জিনিস রয়েছে তা হল মেধা।

“বড় বড় ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশে আসবে না কারণ জমির অভাব রয়েছে। বড় বড় কোম্পানি বড় বড় জমি চায়। আমরা দরিদ্র দেশ, আমাদের জমির অভাব, অর্থনীতির অভাব। তবে একটি জিনিসের কোন অভাব নেই, তা হলো মেধা।”

মেধা থাকলে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠান হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, “অবশ্যই আমরা মেধা দিয়ে আমাদের আইটি সেক্টর বড় বড় কোম্পানি সৃষ্টি করতে পারবো। ভবিষ্যতের ফেইসবুক-গুগল এখানেই সৃষ্টি করতে পারবো।”

“সেটার জন্য ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে উঠিয়ে আনার জন্য কিছু সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। তাদের উঠিয়ে আনার জন্য সরাসরি ইনভেস্ট আনতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিনিয়োগ আনার পদ্ধতিও বাতলে দেন জয়।

তিনি বলেন, “সেটার পদ্ধতি হচ্ছে সিকিউরিটি কমিশনের মাধ্যমে। সিলিকন ভ্যালি চলে ইনভেস্টরের পয়সায়। তারা খুঁজছে ভবিষ্যতের ফেইসবুক-গুগল কোথায়।”

“আমরা যদি চাই ভবিষ্যতের ফেইসবুক-গুগল বাংলাদেশ থেকে আসবে তাহলে এই ইনভেস্টদের আনা সহজ করে দিতে হবে।”

জয় বলেন, “আমরা নির্ভরশীল ছিলাম বড় বড় ইনভেস্টমেন্টের জন্য, এয়ারটেল- শেভরনের জন্য, বড় বড় কোম্পানি বছরে দুই একটির বেশি আসবে না।”

ভবিষ্যতে গার্মেন্টস খাতের চেয়ে আইসিটি খাত থেকে বেশি আয় আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বর্তমানে রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, “তরুণদের হাতে আইসিটির ভবিষ্যত। আইসিটি সেক্টরে টার্গেট নির্ধারণ করার সুযোগ আমাদের নেই, যে টার্গেট নির্ধারণ করি না কেন তা অতিক্রান্ত হবেই।”

আইসিটি খাত নিয়ে যেসব কোম্পানি কাজ করছে আগামী বাজেটে তাদেরকে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশ ১৬ কোটি মানুষের ভিশনে পরিণত হয়েছে। আমরা সেই ব্যবস্থা করতে চাই।”

‘এখানেই ভবিষ্যৎ’ এই স্লোগানে আইসিটি খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরতে ৯ ফেব্রুয়ারি ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড শুরু হয়।

মেলায় ২৫টি দেশের ৭৫ জন বিদেশি বক্তা ২৪টি সেমিনার, নয়টি কনফারেন্স এবং ১১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে পাবলিক সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে একটি প্রতিষ্ঠানসহ ৫৮টি প্রতিষ্ঠানকে তথ্যপ্রযুক্তির যথাযথ ও সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য পুরস্কৃত করা হয়।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক আশরাফ আহমদ জানান, চার দিনের মেলায় প্রায় ৫ লাখ দর্শনার্থী এসেছিল।

অন্যদের মধ্যে তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, বেসিস সভাপতি শামীম আহসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.