ভারতে এখন গরিবদের দুয়ারে ধরনা দিচ্ছে ধনীরা ! কেন, জানেন?

২৫ বছর বয়সী ড্রাইভার রাহুল শর্মা জানেন না, কবে তার মালিক ‘সিংহ থেকে মেষ শাবকে’ পরিণত হয়েছেন? ৯ নভেম্বর প্রথমবারের মতো তার মালিক তাকে আদর করে ‘বেটা’ বলে ডেকেছেন। প্রথমবারের মতো চাকরকে এক কাপ চা দিতে বলা হয়েছিল।

শর্মা বলেন, আমি এমন আচরণে বিস্মিত হয়েছিলাম। দু’দিন এমনটা চলল। গত তিন বছরে আমার মালিক ছিলেন বদ-মেজাজী, অভদ্র এবং স্বেচ্ছাচারী। তিনি আমাকে খুব ভোরে আসতে বলতেন এবং মধ্যরাতে যেতে বলতেন।

শর্মা আরও বলেন, তিনি আমার নাম বলতেও বিরক্তবোধ করতেন। এজন্য আমাকে ড্রাইভার বলেই ডাকতেন। তৃতীয় দিনে তিনি আমাকে টাকা দিলেন। তার কালো টাকার পাহাড় থেকে আমাকে ২ লাখ ৫০ হাজার আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিপোজিট করতে বললেন।

ভারতে চাকর, ড্রাইভার, আয়া, বুয়ারা তাদের মালিকদের কাছ থেকে হঠাৎ এমন অস্বাভাবিক আচরণের মুখোমুখি হচ্ছেন। কালো টাকার বিরুদ্ধে ভারত সরকারের সাম্প্রতিক অভিযানের কারণে এমন ভালো আচরণ পাচ্ছেন তারা।

দুর্নীতি রুখতে এবং কর ফাঁকি বন্ধে ৮ নভেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৫০০ ও ১০০০ হাজার রুপির নোট বাতিল করেন। ফলে এসব নোট মিলিয়ে হাজার হাজার কোটি রুপি মূল্যহীন হয়ে পড়ে। এসব অর্থ বাড়িতেই পড়ে রয়েছে। যদি তার মালিকেরা ব্যাংকে জমা দিতে যান, তবে কর কর্মকর্তারা বাড়িতে অভিযান চালাতে পারে। আরোপ করবে করসহ অতিরিক্ত সাজা।

৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রত্যেক ভারতীয়র সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার রুপি ব্যাংকে জমা করতে পারবে। এর জন্য তাকে কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে না। এজন্যই গরিবদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ধনীরা। চাকরদের সঙ্গে নমনীয় আচরণ করছে তারা। পরে ফিরিয়ে দেয়ার শর্তে এ পরিমাণ অর্থ চাকরের অ্যাকাউন্টে জমা রাখছেন মালিকেরা। তবে শর্মা তার মালিকের অফার নাকচ করে দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, আমি এ অর্থ নিয়ে পরে সমস্যায় পড়তে চাই না। যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে, ড্রাইভার হয়ে কীভাবে এত অর্থ পেলে?

দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড