ভূমিকম্প হলে করণীয় কি?

2ভূমিকম্প হলে করণীয়:
১। ভূমিকম্পের সময় অনেকে টেবিল,
চেয়ার, বিছানা ইত্যাদির নীচে আশ্রয়
নেন- যা অবশ্যই পরিহার করা উচিত।
কিন্ত কিছুদিন আগেও এটা ভূমিকম্পের
সময় বহুল প্রচলিত একটি পদ্ধতি ছিল,
যা ‘Duck and Cover’ পদ্ধতি নামে
পরিচিত। পৃথিবীর বড় বড় ভূমিকম্পে
উদ্ধারকর্মী হিসেবে যারা কাজ করেছেন
তারা বলছেন- ভূমিকম্পের সময় ‘Duck and
Cover’ পদ্ধতি যারা অনুসরণ করেছে, তাদের
বেশিরভাগকেই তারা নিহত অবস্থায়
পেয়েছে। ডাগ কপ নামক একজন অভিজ্ঞ
উদ্ধারকর্মী ১৯৮৫ সালে মেক্সিকো
সিটির ভূমিকম্পে উদ্ধার কাজে অংশ নেন।
প্রথম যে দালানটিতে তিনি ঢোকেন, সেটি
ছিল একটি স্কুল। ভূমিকম্পের সময়
স্কুলের বাচ্চাদের বলা হয়েছিল Desk-এর
নীচে আশ্রয় নেবার জন্য। তারা প্রতিটি
শিশুকেই Desk -এর নীচে গুঁড়িয়ে যাওয়া
অবস্থায় পান। এক্ষেত্রে ভূমিকম্পের সময়
যেটা হয়- দালান ভেঙ্গে পড়ার সময়
Ceiling -এর সম্পূর্ণ ভার এসব Object-এর
ওপর পড়ে, তাতে এর নীচে
আশ্রয়গ্রহণকারীর বেঁচে থাকার কোন উপায়
থাকে না। তাই, ভূমিকম্পের সময় Desk,
টেবিল ইত্যাদি কোন কিছুর নীচে ঢুকে
আশ্রয় নেয়া ঠিক না।


২। উদ্ধার কর্মীরা আরো লক্ষ্য করেছেন-
দালান ভেঙ্গে পড়ার সময় Ceiling যখন
কোন Object -এর ওপর পড়ে একে গুঁড়িয়ে
দেয়, ঠিক তার পাশেই ছোট্ট একটি খালি
জায়গা বা Void -এর সৃষ্টি হয়। একে তারা
বলছেন ‘Safety Zone ’ বা ‘Triangle Of
Life ’। তাই ভূমিকম্পের সময় বড় কোন
আসবাব বা বড় কোন Object যেটা কম
Compress করবে- এরকম কিছুর পাশে
আশ্রয় নিলে বাঁচার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য ছোট্ট একটু
Void-ই যথেষ্ট। বিপন্ন অবস্থায় কুকুর,
বিড়াল এবং শিশুদের একটা সহজাত
প্রবৃত্তি হল কুন্ডলি করে গুটিশুটি হয়ে
যাওয়া। ভূমিকম্পের সময় মানুষেরও এটা
অনুসরণ করা উচিত। তাহলে বিভিন্ন
অবজেক্টের পাশে গুটিশুটি করে আশ্রয়
নিলে এগুলো ভূমিকম্পের সময় যে ছোট
Void-এর সৃষ্টি করবে তাতে বেঁচে থাকার
সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

1
৩। রাতের বেলা ঘুমানোর সময় ভুমিকম্প
হলে কোন হুড়াহুড়ি করার দরকার নেই।
গড়িয়ে মেঝেতে কুন্ডলি পাকিয়ে শুয়ে পড়ুন
বিছানাকে ঢাল বানিয়ে। তার মানে আবার
বিছানার নীচে যেন ঢুকবেন না, বিছানার
পাশে আশ্রয় নিন। তেমনি ভূমিকম্পের
সময় জানালা বা বারান্দা দিয়ে লাফ দেয়া
এসবও করবেন না। সোজা কোন সোফা বা
২নং Point -এ যেভাবে বলেছি সেভাবে ঘরের
মধ্যেই কোন Object -এর পাশে আশ্রয়
নিন।

3
৪। অনেককে বলতে শুনেছি ভূমিকম্পের সময়
দরজার নিচে আশ্রয় নিলে নাকি বাঁচার
সম্ভাবনা বেশি থাকে! দরজার নিচে বা পাশে
থাকলে নির্ঘাত মারা পড়বেন। যদি দরজার
নিচে থাকেন তবে Ceiling -এর নিচে চাপা
পড়ে মারা পড়বেন আর যদি পাশে থাকেন
দরজা আপনাকে দু’ভাগ করে কেটে ভেঙ্গে
পড়বে।
৫। ভূমিকম্পের সময় কখনই সিঁড়িতে
আশ্রয় নেবেন না। সিঁড়ির ‘Moment Of
Frequency’ দালানের চাইতে ভিন্ন হয়
এবং অনেক সময় দালান ভেঙ্গে না পড়লেও
সিঁড়ি দ্রুত ভেঙ্গে পড়ে।

4
৬। চেষ্টা করুন বাসার একেবারে ভিতরের
দিকের রুমে না থেকে বাইরের দেয়ালের
কাছাকাছি আশ্রয় নিতে। দালানের ভেতরের
দিকে থাকলে সবকিছু ভেঙ্গে পড়ার পর
আপনার ‘ Escape Route’ বা ‘উদ্ধার পাবার
রাস্তা’ Block হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
বাইরের দেয়ালের কাছাকাছি থাকলে Block
কম থাকবে, তাড়াতাড়ি উদ্ধার পাবার
সম্ভাবনাও বেশি থাকবে।
৭। ভূমিকম্পের সময় যদি গাড়িতে থাকেন,
তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে নেমে গাড়ির পাশে
বসে বা শুয়ে পড়ুন। গাড়ির ভেতরে থাকলে
রাস্তার ওপরের বিভিন্ন Object গাড়ির
ওপর পড়ে গাড়িকে চূর্ণ করার ফলে মারা
যাবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
৮। যারা পত্রিকা অফিসে কাজ করেন তাদের
জন্য সুসংবাদ। উদ্ধারকর্মী যাদের পত্রিকা
অফিসে উদ্ধার কাজের অভিজ্ঞতা আছে, তারা
বলেছেন- পত্রিকা অফিস বা যেসব অফিসে
বড় বড় কাগজের স্তুপ আছে, সেগুলো কখনো
Compact করে না। কাজেই এসব কাগজের
স্তুপের পাশে তারা বড় বড় Void খুঁজে
পেয়েছেন। যারা এসব অফিসে কাজ করেন,
তারা নিশ্চিন্তে কাগজের স্তুপের পাশে
আশ্রয় নিন।
৯। সব বড় ভূমিকম্পের পরপরই আরেকটা
ছোট ভূমিকম্প হয় যেটাকে ‘After Shock’
বলে। এটার জন্যও সতর্ক থাকুন, না হলে
পচা শামুকেই শেষমেষ পা কাটতে হতে পারে।
১০। প্রথম ভূমিকম্পের পর Utility Line –
গুলো (গ্যাস, বিদ্যুৎ ইত্যাদি) একনজর দেখে
নিন। কোথাও কোন Damage দেখল main switch বন্ধ করে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.