মহানবীর কদম মোবারকের স্পর্শে ধন্য এই মদিনার মাটিতে রয়েছে অজস্র বরকত

আল্লাহতায়ালা বিপুল অনন্যতায় উদ্ভাসিত করেছেন মক্কা-মদিনাকে। তাই সেখানকার মাটি প্রতি মূহুর্ত মুমিন-মুসলমানকে আকর্ষণ করে। যে ব্যক্তি নিজ চোখে দেখেছে প্রাণের শহর মক্কা-মদিনা, সে বড়ই সৌভাগ্যবান। কারণ, আল্লাহর ঘর এবং তার প্রিয় রাসূলের রওজা দর্শনের চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি হতে পারে না মুমিনের জীবনে। এ ছাড়াও সেখানে রয়েছে আল্লাহর কুদরতের বহু নিদর্শন।

প্রতি মূহুর্তে তথায় বর্ষিত হয় রহমত, বরকতের ফল্গুধারা। পাপের বিশাল বোঝা নিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিও সেখান থেকে ফিরে আসে গোনাহমুক্ত নিষ্পাপ জীবন নিয়ে। তাই সর্বযুগের মানুষের কাছে মক্কা-মদিনা সম্মানিত এবং ভালোবাসার প্রাণকেন্দ্র।

Madina-Sharif-inn-0220160819010654

মক্কার মসজিদুল হারাম বিশ্বের তাবৎ মসজিদ থেকে শ্রেষ্ঠতম। সেখানে এক ওয়াক্ত নামাজ সওয়াবের দিক থেকে এক লক্ষ নামাজের সমতুল্য। এ মসজিদের পাশেই রয়েছে জমজম কূপ। যার পানি এক জীবন্ত মোজেজা। এ পানি সম্পর্কে প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ভূপৃষ্ঠের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও কল্যাণকর পানি হচ্ছে জমজমের পানি। এ পানি যেমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিবারণ করে, তেমনি রোগ-বালা থেকেও মুক্তি দান করে।’ -ইবনে হিব্বান

Madina-Sharif-inn-0120160819010606

পবিত্র মক্কা অনন্য মর্যাদায় উদ্ভাসিত হওয়ার কারণ হচ্ছে, সেখানে রয়েছে হাজরে আসওয়াদ, মাকামে ইবরাহিম, মিজাবে রহমত, হাতিম, মুলতাজাম, সাফা-মারওয়া পাহাড়, মিনা, আরাফা, মুজদালিফা প্রভৃতি বরকতময় স্থান। আর এ কারণে স্বয়ং আল্লাহর কাছেও মক্কানগরী অতিপ্রিয়। হিজরতের প্রাক্কালে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) অশ্রুসজল নয়নে বলেছিলেন, ‘হে প্রাণের মক্কা! পৃথিবীতে যত নগরী আছে, আল্লাহর কাছে তুমিই সেরা এবং সবচেয়ে বেশি প্রিয়। আমাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা না হলে আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কোথাও বাস করতাম না।’ –তিরমিজি

মর্যাদায় উদ্ভাসিত মদিনার পূর্ব নাম ছিল ইয়াসরিব। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরতের পর এর নামকরণ হয় ‘মদিনা তাইয়িবা’ তথা পবিত্র শহর। ইসলামের প্রচার-প্রসারের জন্য আল্লাহতায়ালা মদিনাকে নির্বাচিত করেছেন। সেখানেই প্রজ্বলিত হয়েছে ইসলামের মশাল, যার রশ্মিতে আলোকিত আজ সমগ্র বিশ্বভূবন। এ প্রসঙ্গে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমাকে এমন এক নগরীতে বাস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা সমস্ত নগরীকে খেয়ে ফেলবে। মানুষ তাকে ইয়াসরিব বলে। তার নাম হলো মদিনা। সে মন্দচরিত্রের লোকদেরকে এমনভাবে দূর করে দেবে, যেমন কামারের ভাট্টি লোহার ময়লা দূর করে।’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম

হাদিসে বর্ণিত ‘সমস্ত নগরীকে খেয়ে ফেলবে’ কথার ব্যাখ্যা হচ্ছে, মর্যাদার দিক মদিনা অন্যসব শহর থেকে এগিয়ে যাবে।

মদিনার অসংখ্য ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে হাদিসের কিতাবসমূহে। হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেছেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি মক্কাতে যত বরকত দান করেছেন, মদিনাতে তার দ্বিগুণ দান করুন।’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম

আরেক বর্ণনায় রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি মদিনাবাসীর ওপর জুলুম করবে কিংবা তাদেরকে ভয় দেখাবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সমস্ত মানুষের অভিশাপ।’ মদিনায় জিয়ারতকারিদের এই হাদিসের প্রতি খেয়ালা রাখা দরকার। যাতে নিজেদের কথাবার্তায়, কাজেকর্মে, চলাফেরায় মদিনার কোনো মানুষ কষ্ট না পায়।

মদিনার মাটিকে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) রোগের শেফা ঘোষণা করেছেন। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, তিনি আঙুলে থুথু নিয়ে মাটিতে ঘষে রোগির জন্য দোয়া পড়তেন, ‘বিসমিল্লাহি তুরবাতু আরদিনা বিরিকাতি বাযিনা ইশফা সাকিমুনা বি-ইজনি রাব্বিনা।’ -নাসাঈ

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) হিজরত করে সর্বপ্রথম যে মসজিদ নির্মাণ করেছেন, তার নাম মসজিদে নববি। এটা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ তিন মসজিদের একটি। হাদিসে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার মসজিদে এক ওয়াক্ত নামাজের সওয়াব ৫০ হাজার নামাজের সমতুল্য।’

তিনি আরও ইরশাদ করেছেন, ‘আমার কবর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের একটি টুকরো।’ হাদিসের বিশেজ্ঞরা লিখেছেন, ‘ওই স্থানে সবসময় জান্নাতের মতো অজস্র রহমত বর্ষিত হতে থাকে। অথবা সেখানকার ইবাদত জান্নাতে যাওয়ার উসিলা হবে। অথবা বাস্তবিকই ওই স্থানটি জান্নাত হতে আনা হয়েছে।’

আসলে যে শহরে শুয়ে আছেন প্রিয়তম রাসূল। যেখানে সকাল-বিকাল আগমন ঘটত ফেরেশতাকুল সরদার জিবরাইলের, যার প্রতিটি ধূলিকণা রাসূলুল্লাহর কদম মোবারকের স্পর্শ্যে ধন্য, সেখানকার পথঘাট, পর্বত-প্রান্তর সবকিছুই সর্বকালের মানুষের জন্য পরম ভক্তি ও শ্রদ্ধার উপযোগী।