মুরগির সঙ্গে ঘুমালে ম্যালেরিয়া থেকে মুক্তি!

ম্যালেরিয়া থেকে মশা নিধন ছাড়া কোনো গতিই তো নেই। কিন্তু অদ্ভুত এক সমাধান নিয়ে এলেন বিজ্ঞানীরা। ইথিওপিয়ায় সুইডেন ও ইথিওপিয়ার বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, একটি মুরগি নিয়ে শুয়ে থাকলে ম্যালেরিয়া থেকে মুক্তি মিলবে। গবেষণায় বলা হয়, মশা মানুষের রক্তের প্রতি আসক্ত। তবে তারা মুরগির দেহের গন্ধের প্রতিও আসক্ত। ‘ম্যালেরিয়া জার্নাল’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়।

বলা হয়, মানুষের সঙ্গে মুরগি থাকলে মশা মুরগিকেই কামড়াতে উৎসাহী হয়ে ওঠে। মশাদের রক্ত পরীক্ষা করে দেখা যায়, মানুষ যখন মুরগি নিয়ে ঘুমায় তখন প্রায় ১২০০টি মশা মানুষকে ছেড়ে দিয়ে মুরগিকেই কামড়ায়।   ম্যালেরিয়া তখনই ছড়ায় যখন মশা কোনো আক্রান্ত মানুষের রক্ত খেয়ে পরে অন্য কোনো মানুষকে কামড়ায়। সুইডিশ ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস-এর  গবেষক প্রফেসর রিকার্ড ইগনেল জানান, বিষয়টি আমাদের খুব অবাক করে দিয়েছে।

ম্যালেরিয়াবাহী মশা মানুষকে ছেড়ে মুরগিকে কামড়াতে আগ্রহী থাকে। তবে সব প্রাণীকে কামড়াতে চায় না মশা। এ ছাড়া আদ্দিস আবাবা ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ঘরের ভেতরে ও বাইরে থেকে বহু মশা সংগ্রহ করেন এবং তাদের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। তবে ঘরের বাইরে মশা সাধারণত গবাদি পশুকেই বেশি কামড়ায়। বাইরে ৬৩ শতাংশ মশা গবাদি পশুকেই কামড়ায়। আর ২০ শতাংশ মশা মানুষের রক্ত খায়। তবে মুরগিকে কামড়েছে মাত্র ১ শতাংশ মশা। এ পরীক্ষায় ৬৭০০ জন মানুষ, ৩২০০টি মুরগি, ৮৫০টি ছাগল ও ৪৮০টি ভেড়ার ওপর মশার অত্যাচার পরীক্ষা করা হয়। বিজ্ঞানীরা মুরগির মধ্যে চার ধরনের পদার্থের সন্ধান করেছেন যাদের কারণে মশা আকৃষ্ট হয়।

এগুলো হলো আইসোবুটাইল বুটাইরেট, ন্যাপথালিন, হেক্সডিকেন এবং ট্রান্স-লিমোনেনে। এগুলো যে গন্ধ সৃষ্টি করে তা মশাকে কামড়াতে উৎসাহ যোগায়। ইগনেল আরো জানান, সাব-সাহারান আফ্রিকার মানুষ ব্যাপক ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত। এখানকার মশাগুলো কীচনাশকে সহজে কাবু হতে চায় না। এ কারণে এখানে বিশেষ পদ্ধতিতে মশা থেকে বাঁচার উপায় বের করা জরুরি। দেখা গেছে, মানুষের কাছে মুরগি থাকলে মশার অত্যাচারটা মুরগির ওপর দিয়েই যাবে।

সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট