যাত্রীবেশে বাসে ডাকাতি, পিন নম্বরের জন্য হাতুড়িপেটা

রাত ১০টা থেকে পৌনে ২টা পর্যন্ত যাত্রীদের বেঁধে মেঝেতে ফেলে রেখে বাস নিয়ে বিমানবন্দর থেকে কাকলী মোড় হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন ব্যস্ত সড়কে ঘুরে বেড়ায় ডাকাতরা।

পিটুনিতে আহত পাঁচ যাত্রীকে শেষ পর্যন্ত সাভার-কালিয়াকৈর সড়কে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে চলে যায় ডাকাতরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা ঢাকায় ফেরেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক আয়োজন টেক (bangla.bdnews24.com/tech/) সম্পাদক হাসান বিপুল বলেন, ওই বাসের চালক, তার সহকারীসহ অন্যরা এই ডাকাতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

রাত পৌনে ১০টার দিকে বিপুল যখন উত্তরার আজমপুর থেকে মহাখালীগামী বাসটিতে ওঠেন, তখনও ২০ থেকে ২৫ আরোহী ছিলেন ওই বাসে।

বাসটি বিমানবন্দর পার হওয়ার পর তাদের মধ্যে ১৫/২০ জন মিলে পাঁচ যাত্রীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে ফেলে। তখনই বিপুল বুঝতে পারেন, তিনি ডাকাতের কবলে পড়েছেন।

“ডাকাতরা আমাদের চোখ আর হাত পিছমোড়া করে বেঁধে মাথা নিচু করে থাকতে বাধ্য করে। খুব সম্ভবত কাকলী বা চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় বাসটি ইউ টার্ন নিয়ে আবারও বিমানবন্দরের দিকে যেতে থাকে। এর মধ্যে তারা আমাদের সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র, টাকা-পয়সা আর এটিএম কার্ড নিয়ে নেয়।”

এরপর যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া এটিএম কার্ডগুলো নিয়ে ডাকাতদের কয়েকজন নেমে যায় এবং রাস্তার পাশের বুথগুলোতে গিয়ে টাকা তোলার চেষ্টা করে। বাসে থাকা অন্য ডাকাতদের মাধ্যমে তারা সংশ্লিষ্ট যাত্রীর কাছে পিন নম্বর জানতে চায়।

যাত্রীরা পিন নম্বর না বলায় শুরু হয় নির্যাতন। কিল-ঘুসির পাশাপাশি হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয় শরীরের বিভিন্ন স্থানে। এমনকি মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান বিপুল।

“আমার কাছে তিনটি ব্যাংকের কার্ড ছিল। এর মধ্যে দুটি কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি ওই দুটি কার্ডের পিন তাদের বলি। সেগুলো কাজ না করায় তারা আমাকে বেদম মারধর শুরু করে।”

যাত্রীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ পাওয়া যাবে কিনা- এমন বিষয়েও ডাকাতরা আলোচনা করে বলে জানান বিপুল।

এক পর্যায়ে জিম্মি যাত্রীদের বাসের মেঝেতে শুইয়ে রেখে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে থাকে বাস। রাত পৌনে ২টার দিকে তাদের সাভার-কালিয়াকৈর সড়কের পূর্নিমা সিনেমা হলের কাছে রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়া হয়। তখনও তাদের হাত-চোখ বাঁধা।

ডাকাতরা বাস নিয়ে চলে যাওয়ার পর ফেলে যাওয়া যাত্রীদের চিৎকারে পাশের একটি ট্রাকের গ্যারেজ থেকে কয়েকজন এগিয়ে আসেন। তারাই পাঁচজনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

পরে স্থানীয় একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে একটি প্রাইভেট কারের সহায়তা নিয়ে রাতে মহাখালী ফিরে আসেন বিপুল ও অন্যরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ কমিশনার ইকবাল হোসেন বলেন, “আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আহত হাসান বিপুল জানান, একটু সুস্থ হয়ে তিনি এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.