যেভাবে আড়াই ঘণ্টায় দুই চিকিৎসক সেবা দিলেন মাত্র ৪০৫ জনকে !

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার উয়ারী-বটেশ্বর গ্রামের মুক্তার মিয়ার স্ত্রী ফজিলত বেগমের নাকের মাংসপিণ্ডÐবেড়ে গেছে। চিকিৎসার জন্য তিনি যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি হোমিওপ্যাথি বিভাগের চিকিৎসক শরফ উদ্দিন নূরীর সাক্ষাৎ পান। তবে ওষুধ ও ব্যবস্থাপত্র পেয়েছেন মাত্র এক মিনিটে।

ফজিলত বেগম বলেন, ‘নাকের “ন” কওয়ার আগে ডাক্তার সাব হাতে কাগজ ধরাইয়া দিছে। লগে বওয়া আরেকজন দিছে ওষুধ। সমস্যার কথা কইতেই পারলাম না। এই ওষুধ খাইয়া রোগ ভালা হইব কেমনে?’ এভাবে চিকিৎসা দেওয়ায় গতকাল সোমবার বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে ফজিলতের মতোই অসন্তোষ।

ফজিলতের অভিযোগের বিষয়ে দ্বিমত করেননি চিকিৎসক শরফ উদ্দিন নূরীও। তিনি বলেন, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় রোগীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলতে হয়। ইতিহাস জানতে হয়। তবে এ চেয়ারে বসে ইতিহাস তো দূরের কথা, কয়েক মিনিটের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হয় না।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যার। তিন বছর আগে ৫০ শয্যার জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। এ উপজেলা ছাড়াও পাশের কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।

হাসপাতালে মঞ্জুরীকৃত চিকিৎসকের পদ ১৮টি। কর্মরত পদ ১৬টি। এর মধ্যে প্রেষণে আছেন সাতজন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের রেজিস্ট্রারের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বহির্বিভাগে রোগী দেখেছেন মাত্র দুজন চিকিৎসক। তাঁরা ৪০৫ জনকে চিকিৎসা দেন।

সকাল নয়টা থেকে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করা হয় বলা হলেও গতকাল ১০টায় চিকিৎসা শুরু হয়। আর রোগী দেখা শেষ হয় সাড়ে ১২টায়। এ কথা জানিয়েছেন রোগীরা।

 স্থানীয় অনেকের অভিযোগ, হাসপাতালে সকাল ১০টার আগে কোনো চিকিৎসক আসেন না। আবার দুপুর ১২টার পর কেউ থাকেন না। প্রতিদিন এক থেকে দুজনের বেশি চিকিৎসক পাওয়া যায় না।

গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার সময় হোমিওপ্যাথি বিভাগের চিকিৎসক শরফ উদ্দিন নূরী ছাড়া বহির্বিভাগে আর কোনো চিকিৎসককে চিকিৎসা দিতে দেখা যায়নি। তবে জরুরি বিভাগে ছিলেন চিকিৎসক রাজিউর রহমান। হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, বহির্বিভাগে চিকিৎসক আয়েশা আফরোজও রোগী দেখেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু চিকিৎসক-সংকটই নয়, হাসপাতালের একমাত্র এক্স-রে যন্ত্রটি বিকল এক যুগ ধরে। আলট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রটি থাকলেও পরিচালনার জন্য কেউ নেই। যন্ত্রটি এখনো বাক্সবন্দী। অন্তর্বিভাগের রোগীদের খাবার রান্নার জন্য বাবুর্চির দুটি পদ আছে। তবে পদায়ন নেই। জুনিয়র মেকানিক পদটি শূন্য থাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শরাফত উল্লাহ খান বলেন, সাতজন চিকিৎসক নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে আবার মেডিসিন কনসালট্যান্ট ফাইজুর রহমান আছেন দুদিনের প্রশিক্ষণে। আরেক চিকিৎসা কর্মকর্তা বাপ্পী দাসের পূজার ছুটি শেষ হয়নি।

দুপুর ১২টার মধ্যে বহির্বিভাগ বন্ধের বিষয়ে শরাফত উল্লাহ বলেন, ওষুধ শেষ হয়ে গেলে রোগীরা শুধু ব্যবস্থাপত্র নিতে চান না। আর ওষুধ ১২টার মধ্যে শেষ হয়। তাই চিকিৎসাও বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।