রাঙ্গামাটিতে পাওয়া গেছে সত্যিকার টাকার গাছ!

গাছ ভর্তি টাকা! টাকায় টাকায় ছেয়ে গেছে ডালপালা! চকচকে দুই টাকার নোটের কচি পাতা, একশ’ টাকার নোটের বড় পাতা, ছোট বড় অারও অনেক পাতা, দশ-বিশ-পঞ্চাশ টাকার নোট।

কোনো গহীন অরণ্য বা রূপকথার রাজ্যে নয়, পাহাড় ঘেরা রাঙ্গামাটির মেঠো পথে মিলছে টাকার গাছের! এই টাকার গাছ বড় হচ্ছে দিন দিন, বাড়ছে টাকা। গাছের নিচ পর্যন্ত ঝুলছে টাকার ডালপালা।

image_20

কুশি গজিয়ে পাতা না গজালেও রাস্তার পাশে ডালে ডালে সুই-সুতোয় একটি টাকার সাথে অারেকটি টাকা গেথে দিচ্ছে কয়েকজন কিশোর।

শনিবার (১৫ অক্টোবর) খাগড়াছড়ি থেকে রাঙ্গামাটি যাওয়ার পথে সকাল সাড়ে অাটটার দিকে অাঠারো মাইল এলাকায় রাস্তার পাশে বটগাছের নিচে চোখে পড়ে এই দৃশ্য।

পাহাড়িদের কাছে এই টাকার গাছের নাম ‘কল্পতরূ’। ‘কল্প’ অর্থ টাকা, অার ‘তরূ’ অর্থ গাছ বা লতাপাতা।

এই টাকার গাছ তৈরি শুকনো কোনো গাছের কাঠামো দিয়ে, রঙিন কাগজ লাগিয়ে করা হয়েছে অাকর্ষণীয়। অার বহন করার জন্য লাগানো হয়েছে দুই দিকে চারটি হাতল।

সিএনজি দাঁড়িয়ে কথা হলো সেই কিশোরদের মধ্যে অমর বিকাশ চাকমা, সোহেল চাকমা, অমূল্যধন চাকমা ও তার বন্ধুদের সঙ্গে।

কথা বলে জানা গেলো, সামনে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান কঠিন চীবর দান উপলক্ষে অর্থ তুলছেন তারা।

সেখানে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে দেখা গেলো যানবাহন দেখলে হাত তুলছেন তারা। যানবাহনের যাত্রীরা যে যার মতো সহায়তা করছেন।

কুতুকছড়ি বড় মহা পূরম উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র অমর বিকাশ ও সোহেল চাকমা জানায়, জোর করে নয়, সবাই ইচ্ছে মতো শ্রদ্ধাদান করছেন। অাগামী ১৮ ও ১৯ অক্টোবর নানিয়ারচর শাসনোদয় বন বিহারে উদযাপিত হবে এই অনুষ্ঠান। শ্রদ্ধাদানের কাজে স্বচ্ছতা অানতে রশিদও দিচ্ছে তারা।

রাঙ্গামাটি যেতে অারও কয়েকটি স্থানে দেখা মিললো এমন টাকার গাছের। বহন করা সিএনজি চালক বিন্দু চাকমা জানালেন, প্রায় এক মাস ধরে এভাবে অর্থ সহায়তা প্রার্থণা করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়।

পর্যটনের নানা উপাদানে ঘেরা এই টাকার গাছগুলো পাহাড়ি পথে বাড়তি খোরাক যোগাচ্ছে পর্যটকদের।