শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর ১০টি নির্দেশনা আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের !

সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলায় বেসরকারির পর এবার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একটি গোয়েন্দা রিপোর্টের পর নতুন করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

দেশের প্রথম সারির কয়েকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উগ্রপন্থি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বলে তথ্য পেয়েছে মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) মতো প্রতিষ্ঠানে উগ্রপন্থিদের অবস্থান রয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে গোয়েন্দারা।

এই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি দুটি হলে তল্লাশি চালায় বুয়েট কর্তৃপক্ষ। সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের বই, প্রচারপত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পায় তারা।

এ সময় কোনো শিক্ষার্থীকে আটক করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে বেশকিছু শিক্ষার্থী নজরদারিতে আছে বলে জানা গেছে। বুয়েটের রেজিট্রার ড. এনএম গোলাম জাকারিয়া বলেন, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা সরকার যেমন উদ্বেগ্ন তেমনি আমরাও।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেভাবে বলছে আমরাও সেভাবে কাজ করছি। এছাড়াও বুয়েট নিজস্ব কৌশলে জঙ্গি তৎপরতা রোধ করতে কাজ করছে। বুয়েটের একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বুয়েটে বেশ পরিবর্তন দেখছি। মসজিদ, হলগুলোতে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।

.বাইরে থেকে আগত ব্যক্তিদের নজরদারি করা হচ্ছে। তারা কার রুমে যাচ্ছে, কার সঙ্গে কতক্ষণ কথা বলছেন, তা-ও মনিটরিং করা হচ্ছে। ভিসি অফিস থেকে আরো কিছু মৌখিক নির্দেশনা আমাদের দেয়া হয়েছে বলে জানান শিক্ষকরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে- সরকারি, বেসরকারি মোট ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি নজরদারি করতে বলা হয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ, বুয়েট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আগামী ২৩শে জুলাই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের নিয়ে বৈঠক করবেন শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসি চেয়ারম্যান।

সেখানে ভিসিদের ১০ ধরনের নির্দেশনা দেয়ার খসড়া তৈরি করেছে মন্ত্রণালয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবাসিক হওয়ার এখানে জঙ্গি তৎপরতা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য প্রত্যেকটি

আবাসিক হল, মসজিদ, ছাত্রদের আড্ডা দেয়ার জায়গা, ক্যান্টিন, লাইব্রেরি, কমন রুম, নির্জন জায়গাগুলোয় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হবে।

এখানে কে কতক্ষণ থাকে, কার সঙ্গে মিশে- এ বিষয়গুলো মনিটরিং করতে বলা হবে ভিসিদের। এছাড়াও ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা, আবাসিক হলের মেইন গেটে নজরদারি বাড়ানো, লাইব্রেরিতে কারা কতক্ষণ থাকছে কী করছে- এসব বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা দেয়া হবে। গত সোমবার ইউজিসিতে ভিসিদের নিয়ে  বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

.সেখানে ভিসিরা কিছু পরামর্শ এবং তাদের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। মঞ্জুরি কমিশন এ বিষয়গুলো আমাদের দিয়েছে। এগুলো সমন্বয় করছি।

এদিকে বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উগ্রপন্থা থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তারা।

আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, পরিচালক, হল প্রভোস্টদের নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।  এছাড়া বিভিন্ন হল, আবাসিক এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

আবাসিক হল ও মসজিদ, লাইব্রেরি এলাকায় কড়া নজরদারি করা হচ্ছে। প্রক্টরিয়াল টিমকে আরো সত্রিুয় করা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাস ও অন্যান্য ভবনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আবাসিক এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য যারা আছে, তাদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছ।

– See more at: http://www.currentnews.com.bd/bn/news/114004#sthash.fbWCP8la.dpuf