শিশুরা কি করবে রমজান মাসে?

bangla.infozone. ramadan news

রমজান হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ হতে সওয়াব ও পবিত্রতা অর্জনের এক মহা সুযোগের মাস। এ মাসের নামায-রোযা, দান-খয়রাত, জাকাত-ফিতরা সবকিছুতে রয়েছে রহমত ও বরকত।  ‘রোযা’ ফার্সি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো ‘বিরত থাকা’ বা ‘বর্জন করা’। শরিয়তের পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকার নাম ‘রোযা’। রোযা ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। নামাজের পরই এর স্থান। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও দৈহিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর রোযা ফরজ।

রোযার গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন, রোযা একান্তই আমার জন্য আর আমিই এর প্রতিদান দেবো। অন্যদিকে রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস ও সওয়াবের আশা নিয়ে রমজান মাসে দিনের বেলায় রোযা রাখবে এবং রাতের বেলায় ইবাদত-বন্দেগী করবে, তার অতীত জীবনের সকল গুণাহ মাফ করে দেয়া হবে। তো বন্ধুরা, রোযা সম্পর্কে মহান আল্লাহ এবং রাসূল (সা.)-এর বাণী থেকে তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছ যে, মুসলমানদের জীবনে রোযার গুরুত্ব অপরিসীম।  বন্ধুরা, তোমাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, মানুষের আত্মশুদ্ধির জন্য আদিকাল থেকেই বিভিন্ন ধর্মে রোযা পালনের প্রচলন ছিল। হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু হবে হযরত ঈসা (আ.)-এর সময় পর্যন্ত পৃথিবী যত নবী-রাসূল এসেছেন সবাই রোযা রাখতেন এবং তার অনুসারীদের তা রাখতে বলতেন। তবে তার ধরন ছিল আলাদা। মাসব্যাপী রোযার বিধান বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর আমল থেকেই শুরু হয়।   

আমাদের প্রিয়নবী যে বছর মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেন তার পরের বছর অর্থাৎ দ্বিতীয় হিজরী থেকে রোযা ফরজ হয়। রাসূল (সা.) বলেছেন, প্রতিটি জিনিসেরই একটা দরজার আছে আর ইবাদতের দরজা হলো রোযা। মাহে রমজানের গুরুত্ব প্রসঙ্গে   তোমরা সবাই জানো যে, রোযা রেখে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুই খাওয়া যাবে না। তবে শুধু উপোস থাকলেই চলবে না। রোযাদার খারাপ কথা বলবে না, পরনিন্দা করবে না, কারো সাথে ঝগড়া বিবাদ করবে না এমনকি মিথ্যা কথাও বলবে না। নবী করীম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা ও খারাপ কাজ পরিহার না করে শুধু পানাহার পরিত্যাগ করল, তার রোযা আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’

রোযাদারদের সব সময় মনে রাখতে হবে, রোযা রাখা এবং একই সাথে খারাপ আচরণ করা আত্মাবিহীন দেহের মতো। কিন্তু কেউ যদি গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসে তাহলে কি করতে হবে? এ অবস্থায় কী করতে হবে তা রাসূলে খোদার একটি বাণী থেকেই জানা যায়। তিনি বলেছেন, ‘কেউ যদি কাউকে গালি দেয় অথবা ঝগড়া করে তাহলে সে যেন বলে আমি রোযাদার।’ যারা ছোটো তাদের রোযা না রাখলেও চলে। কিন্তু এ মাসে বেশী করে ভালো কাজ করতে হয়, বড়দের কথা শুনতে হয় এবং বেশী বেশী আল্লাহর কথা স্মরণ করতে হয়। আর তাহলেই আমাদের পাপ মোচন হবে এবং রাইয়্যান নামের দরজা দিয়ে আমরা বেহেশতে যেতে পারব। বন্ধুরা, রমজান মাসে ঈমানকে মজবুত করার জন্য তোমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করতে পারো। যেমন- ইফতার তৈরি ও সাজিয়ে রাখা, কোনো মেহমান এলে তাকে ইফতার দেয়া, বাড়ির আশেপাশে প্রতিবেশী; এমনকি মসজিদে সমবেত মুসল্লীদের জন্য ইফতার পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তোমরা ভূমিকা রাখতে পার। আর হ্যাঁ, যারা এতিম কিংবা মিসকিন তাদেরকে ইফতার দিতে হবে সবার আগে। এসব করলে আমাদের ঈমান যেমন মজবুত হবে তেমনি পরিবার ও সমাজের সবাই খুশি হবে।

বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চই জানো যে, রমজান মাসে পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস। তাই রমজান মাসে কুরআন তেলাওয়াত করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। যারা কুরআন পড়তে পারো তারা এ মাসে সম্পূর্ণ কুরআন একবার হলেও খতম করার চেষ্টা করবে। আর যারা কুরআন পড়তে পারো না তারা এ মাসে কুরআন পড়া শিখতে পারো। মনে রাখব নফল ইবাদতগুলোর মধ্যে কুরআন তেলাওয়াতই সবচেয়ে উত্তম ইবাদত।