শেষ পর্যন্ত চিত্র নায়িকা হ্যাপি বিয়ে করলেন মাদ্রাসার এক শিক্ষককে

আলোচিত অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপি বিয়ে করেছেন।  হ্যাপি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাসে হ্যাপি লিখেছেন, “আজকে বিয়ে করেছি। আমার স্বামী একজন নামাজি ব্যক্তি। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন প্লিজ।”

এদিকে হ্যাপির ছোট বোন শারমিন আক্তার পপি জানান, রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসায়  সোমবার রাতে বিয়ে হয় হ্যাপির। বিয়ের পর আশেপাশের আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মিষ্টি পাঠানো হয়। হ্যাপির বর মিরপুরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। বিয়ের সময় দুই পরিবারের একান্ত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বাকি আনুষ্ঠানিকতা শীঘ্রই সম্পন্ন হবে।

হ্যাপির সঙ্গে জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিল বলে হ্যাপি এক সময় দাবি করেন। এরই জেরে ২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় নাজনীন আক্তার হ্যাপি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের অভিযোগ এনে রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, প্রায় ৮ মাস আগে রুবেলের সঙ্গে তার প্রেম হয়। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সর্বশেষ গত বছরের ১ ডিসেম্বর রুবেল তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে বিয়ের প্রস্তাব দিলে রুবেল এড়িয়ে যায়।
হ্যাপির দায়ের করা মামলার অভিযোগের তদন্ত শেষে গত ৬ এপ্রিল ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পরিদর্শক হালিমা খাতুন চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। এতে বলা হয়, “ভিকটিম হ্যাপিকে ডাক্তারি পরীক্ষা করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নুজহাত আন্দালিব সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের বোর্ডের দাখিল করা ফরেনসিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘হ্যাপিকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।’ হ্যাপির দাবি অনুযায়ী রুবেলের ব্যবহার্য পোশাকেও আপত্তিকর কোনো পদার্থ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া হ্যাপি প্রাপ্তবয়স্ক, মিডিয়াতে কাজ করা সচেতন ও আধুনিক একজন নারী। প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে বিবাহ ছাড়া যদি তিনি রুবেলের সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা করেন তা হলে তা তার সম্মতিতেই হয়েছে, যা আইনত ধর্ষণের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। তা ছাড়া অভিযোগ প্রমাণের জন্য হ্যাপি কোনো সাক্ষীও হাজির করতে পারেননি। সার্বিক তদন্ত, সাক্ষ্য, ডাক্তারি রিপোর্ট, রাসায়নিক পরীক্ষার ফল পর্যালোচনা করে দেখা যায় রুবেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ হ্যাপি এনেছেন তা প্রমাণিত হয় না। রুবেলকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া যেতে পারে।”
গত ২১ মে ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তানজিনা ইসমাইল উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে রুবেল হোসেনকে অব্যাহতি দেন।