সর্বকালের অন্যতম প্রভাবশালী মার্শাল আর্ট শিল্পী ব্রুস লি

মার্শাল আর্ট শিল্পী, শিক্ষক, চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা ব্রুস ইয়ুন ফান লি ১৯৭৩ সালের এ দিনে (২০ জুলাই) হংকংয়ে মারা যান। তাকে ধরা হয় সর্বকালের অন্যতম প্রভাবশালী মার্শাল আর্ট শিল্পী। টাইম ম্যাগাজিনের মতে তিনি বিশ শতকের সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী এক শ’ ব্যক্তির মধ্যে অন্যতম। বিশ শতকের পপ সংস্কৃতির অন্যতম আইকন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্রে এশিয়ানদের প্রবেশে তার অবদান অগ্রগণ্য। এখনো তার চলচ্চিত্রগুলো দর্শকদের কাছে প্রিয়। ব্রুস লি ১৯৪০ সালের ২৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোর চায়না টাউনে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা লি হো-চুং ছিলেন ক্যান্টনিজ অপেরা ও চলচ্চিত্র তারকা এবং মা গ্রেস হো। তিনি বড় হন হংকংয়ের কাউলুনে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে মাস্টার ইপ ম্যানের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। তিনি তাকে উইং চুন স্টাইলের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ দেন। হংকংয়ে লি প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। উচ্চতর পড়াশোনার জন্য ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। ভর্তি হন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে। এ সময় তিনি মার্শাল আর্ট শিখানো শুরু করেন। বাবার হাত ধরে তার চলচ্চিত্রে প্রবেশ। শিশুশিল্পী হিসেবে অনেকগুলো ছবিতে অভিনয় করেছেন। মার্শাল আর্টের বিভিন্ন কৌশল আয়ত্ত করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন দ্রুত। এর মধ্যে ছিল গতি ও নির্ভুলতা কাজে লাগিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর বিভিন্ন অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয়। প্রথমদিকে হংকংভিত্তিক মার্শাল আর্ট-নির্ভর ছবিতে অভিনয় করেন। পরে হলিউড প্রযোজিত ছবিতে অভিনয় শুরু করেন। এর মাধ্যমে হংকংয়ের মার্শাল আর্টকে শিল্প হিসেবে অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে যান। মার্শাল আর্টের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যায়। যা সত্তরের দশকের পশ্চিমা তরুণদের আকর্ষণ করে। ধীরে ধীরে বিশ্ব চলচ্চিত্রে মার্শাল আর্ট গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে। এ ছাড়া তিনি জিৎ কুন দো নামক নতুন ধরনের মার্শাল আর্টের প্রতিষ্ঠাতা। ৩২টি চলচ্চিত্র এবং অনেক ডকুমেন্টারি ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ব্রুস লিকে দেখা গেছে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য পাঁচটি চলচ্চিত্র হলো- দ্য বিগ বস (১৯৭১), ফিস্ট অব ফিউরি (১৯৭২), ওয়ে অব ড্রাগন (১৯৭২), এন্টার দ্য ড্রাগন (১৯৭২) এবং দ্য গেম অব ডেথ (১৯৭৩)। এ সব ছবির মাধ্যমে তিনি বিশ্বজোড়া আইকনিক ফিগার হয়ে উঠেন। চাইনিজ জাতীয়তাবাদকে ধারণ করার কারণে চাইনিজদের মধ্যে বিশেষ সমাদর লাভ করেন। বলা হয়, ‘ওয়ে অব দ্য ড্রাগন’ ছবির মাধ্যমে মার্শাল আর্টকে গোটা বিশ্বের দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেন৷ তিনি এ ছবির চিত্রনাট্য তৈরি করেন ও কারাতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন চাক নরিসকে অভিনয় করতে বলেন৷ দুই লিজেন্ড অভিনীত ছবিটির অ্যাকশন দৃশ্যগুলো ইতিহাস সৃষ্টি করে৷ চীন-মার্কিন যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত প্রথম ছবি ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’ মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে৷ এটি তার সর্বশেষ ও সবচেয়ে সফল ছবি৷ এর প্রিমিয়ারের কয়েক দিন আগে মারা যান৷ বেদনানাশক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়৷ মৃত্যুর আগে চিত্রায়িত অ্যাকশন দৃশ্যগুলো ‘গেম অব ডেথ’ ছবিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ পরবর্তীকালের জ্যাকি চ্যান, জেট লি, ডনি ইয়ান, স্টিভেন সিগাল ও জঁ ক্লোদ ভ্যান ডেমের মতো জনপ্রিয় মার্শাল আর্ট তারকাদের পথপ্রদর্শক তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে লিন্ডা এমেরির সঙ্গে অন্তরঙ্গতা হয় ব্রুস লির। ১৯৬৪ সালে তারা বিয়ে করেন। পরের বছর প্রথম সন্তান ব্রান্ডন লির জন্ম হয়। মেয়ে শ্যাননের জন্ম হয় চার বছর পর। ২৮ বছর বয়সে ব্রান্ডন একটি ছবির শুটিং চলাকালে ভুলবশত গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।

– See more