সেই ‘বৃক্ষমানব’ এখন স্বাভাবিক জীবনের পথে

বাংলাদেশে বৃক্ষমানব বলে পরিচিত আবুল বাজনদার চার মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাত-পায়ে শিকড়ের মতো গজিয়ে ওঠা বিরল এক রোগের চিকিৎসা নিতে তাকে দফায় দফায় যেতে
হয়েছে ছুরির নিচে। তার হাতের অস্ত্রোপচারের ব্যান্ডেজ খুলে দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি। এখন কেমন লাগছে- গতকাল সোমবার এক চিকিৎসকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর আবারও নিজের স্বাভাবিক হাত দেখছি।
অন্য সবার মতো আমিও কাজ করতে পারব। ছেলেমেয়েকে কোলে নিতে পারব। এর চেয়ে আমার আনন্দের আর কিছু হতে পারে না।’ স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
এ সময় দুই হাত চোখের সামনে রেখে অপলক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন আবুল বাজনদার। তার কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না- অন্য দশজনের মতো স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে যাচ্ছেন তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে আট দফা অস্ত্রোপচার শেষে তার হাতের ব্যান্ডেজ
খুলে দেওয়া হলেও দুই পায়ের ব্যান্ডেজ এখনও রয়েছে। পায়ে আরও অস্ত্রোপচার করতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, বাজনদারের পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। বাঁ হাতের তুলনায় ডান হাতের বেশি উন্নতি হয়েছে। ডান হাত দিয়ে কলম ধরতে পারছেন। বাঁ হাতও কিছুদিনের মধ্যে উন্নতি করবে বলে আশাবাদী তিনি।
ডা. সেন বলেন, আবুল বাজনদারের এখন ফিজিওথেরাপি লাগবে। হাতের আঙুলগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। ব্যায়াম করলেই আঙুলগুলো সচল হবে। এ ছাড়া হাতের উন্নতির জন্য কয়েকটি মলম দেওয়া হয়েছে। এসব মলম ব্যবহার করলে হাতের স্বাভাবিকত্ব ফিরে আসবে।
চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি আবুল বাজনদারকে ঢামেক হাসপাতালের ওই ইউনিটে ভর্তি করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবুল বাজনদারকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে নির্দেশ দিয়েছেন। তার সব চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করছে।