স্কুলে যত বিচিত্র নিয়ম।

স্কুল মানেই একগাদা নিয়ম। কিন্তু কিছু কিছু স্কুলের নিয়ম বড়ই অদ্ভুদ ।

ঘুমানো বাধ্যতামূলক!

চীনের অনেক স্কুলেই প্রথম শ্রেণির শিশুদের ক্লাসে ঘুমানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে! শিশুদের ঘুম কম হওয়ার কারণে স্কুলের পড়াশোনায় মস্তিষ্কে চাপ পড়তে পারে, এমন চিন্তা থেকেই স্কুল কর্তৃপক্ষ টিফিনের পর আধা ঘণ্টার ঘুম বাধ্যতামূলক করেছে। স্কুলে ঘুমাতে পেরে শিশুরাও বেজায় খুশি। অন্যরা এ নিয়ম শুনে কপাল কুঁচকাতে পারে। তবে চীনের স্কুল কর্তৃপক্ষ বেশ খুশি। কারণ এতে করে নাকি শিশুরা পড়াশোনায় আরো মনোযোগী হয়েছে।

 

মজার খাবার ও রঙিন দুনিয়া

ভারতের কর্নাটক রাজ্যের ম্যাঙ্গালর শহরের লর্ডিস সেন্ট্রাল স্কুলে শিশুদের স্বাস্থ্যকর ও মজাদার খাবার দেওয়া হয়, যাতে করে তারা বাসায়ও সেই খাবারের প্রতি আগ্রহী হয় এবং টিফিন হিসেবে সেগুলোই আনে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে এসব খাবার তৈরি করে। মেন্যুতে থাকে মজাদার দোসা, চাপাতি, ভাত ও সবজিজাতীয় খাবার। এ স্কুলে আবার শিশুদের রং চেনানোর জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের বিভিন্ন রঙের পোশাক পরানো হয়। লাল রং উচ্ছ্বাসের, গোলাপি রং মমতার ও নীল রং সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে শেখানো হয়।

 

 ঋতু অনুযায়ী স্কুল ড্রেস, শাস্তিও অদ্ভুত

জাপানের প্রাথমিক শিক্ষা পদ্ধতিতে কোনো স্কুল ড্রেস নেই। শিশুরা যা খুশি পরে স্কুলে আসতে পারে। তবে দেশটির অধিকাংশ স্কুলে গ্রীষ্ম ও শীতকালের আলাদা পোশাক থাকে। খেলাধুলার পোশাকও আলাদা এবং খেলাধুলার জন্য স্কুলেই শিক্ষার্থীদের পোশাক বদলাতে হয়। জাপানের অধিকাংশ স্কুলে শিক্ষার্থীদের নকল করা বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য অদ্ভুত শাস্তি পেতে হয়। শাস্তিস্বরূপ কোনো কোনো স্কুলে মাথার চুল ছেঁটে দেওয়ার রেওয়াজও আছে।

 

পরিচ্ছন্নতা থেকে অভিনয়

দক্ষিণ কোরিয়ার স্কুলগুলোতে শিশুদের পরিচ্ছন্নতা শেখানো হয় হাতেকলমে। স্কুল কক্ষ বা হোস্টেলের কক্ষ ও মেঝে পরিষ্কার করার দায়িত্ব বর্তায় খুদে শিক্ষার্থীদের ঘাড়েই। স্কুল ভবন পরিষ্কার রাখার স্বার্থে কোরিয়ার অধিকাংশ স্কুলেই বাইরের জুতা পরে ছাত্রছাত্রীরা ঢুকতে পারে না। শিক্ষার্থী ও স্কুলের শিক্ষক-কর্মকর্তাদেরও স্কুল ভবনে ঢোকার সময় ভেতরে রাখা স্যান্ডেল পরতে হয়। পেশাজীবনের বিভিন্ন ধাপে শিশুদের খাপ খাওয়ানোর জন্য করতে হয় অভিনয়। অর্থাৎ কেউ বড় হয়ে পুলিশ হতে চায় তো তাকে অভিনয়ের ক্লাসে পুলিশের চরিত্রে এক শতে এক শ পেতেই হবে। আর চরিত্রের তালিকায় ট্রাফিক পুলিশ থেকে শুরু করে স্পাইডারম্যান ও সাধারণ কোরিয়ান নাগরিকের ভূমিকা পর্যন্ত রয়েছে।

 

সাঁতার শিখতেই হবে

জাপানের প্রায় সব প্রাইমারি স্কুলেই সাঁতার শেখা বাধ্যতামূলক। খুদে শিক্ষার্থীরা গ্রীষ্মকালে স্কুলের সুইমিংপুলে সাঁতার শেখে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা ক্লাস। শ্রেণি অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ১ শ, ২ শ ও ৪ শ মিটারের সাঁতারের পরীক্ষা হয়। যদি কোনো শিক্ষার্থী সাঁতরাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাকে আলাদা প্রশিক্ষণ দিয়ে পাস করানোর ব্যবস্থা করা হয়। গরমের মৌসুমে এ ক্লাস ফাঁকি দিতে দেখা যায় না কাউকে।

 

ঝাড়ুবল

ঝাড়ু দিয়ে বাসা-বাড়ি ঝাড়ু না দিয়ে বল খেলা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও হাই স্কুলে। খেলাটি ১৯৭৭ সাল থেকে চালু হয়েছে এখানে। অনেকটা হকির মতো করে খেলাটি খেলতে হয়। তবে হকি স্টিকের বদলে প্লাস্টিকের ছোট মাথাওয়ালা ঝাড়ু থাকে সবার হাতে। স্কুলের শিক্ষার্থীরা বরফের ওপর এ খেলায় বিশেষ এক ধরনের বরফ-সহনীয় জুতা পরে মাঠে নামে।