হতে পারে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প , পলির নিচে ভূ-চ্যুতি…

নদীতে জমে থাকা পলিমাটির নিচের ভূ-চ্যুতির কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প পর্যন্ত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মাইকেল স্টেকলার নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানীর করা এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নদীগুলোতে মাইলের পর মাইল জমে থাকা পলির নিচে বড় আকারে ভূ-চ্যুতি রয়েছে।  এ কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এ অঞ্চলে ৯ দশমিক ০ মাত্রার পর্যন্ত ভূমিকম্প হতে পারে।

ড. মাইকেল স্টেকলারের গবেষণা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আজ শুক্রবার একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন। যাতে বলা হয়, জীবনদায়ী নদী গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র ভারত ও বাংলাদেশে বসবাসকারী কোটি কোটি মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু হাজার বছর ধরে বয়ে চলা নদী দুটির বদ্বীপ অঞ্চলে লাখ লাখ টন পলি জমেছে। যার কারণে বাংলাদেশের একটি বৃহৎ অংশে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ লুকিয়ে থাকতে পারে, যা এর আগে এই অঞ্চলে কখনো দেখা যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুটি টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বড় আকারের চ্যুতি রয়েছে। এই অঞ্চলে দুটি প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে এবং আরেকটির অবস্থান নিত্য পরিবর্তনশীল। আর এই চ্যুতির কারণেই বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। যা ৯ মাত্রা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। উদাহরণ হিসেবে গবেষকরা ২০১১ সালে জাপানে ভূমিকম্পের পরের সুনামি এবং ২০০৪ সালে বান্দা আচেহ প্রদেশে ভূমিকম্পের পর ভারত মহাসাগরে সুনামির কথা বলেন, যা প্রায় একই কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।

গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এই চ্যুতির ১০০ কিলোমিটার (৬০ মাইল) পরিধির মধ্যে ১৪ কোটিরও বেশি মানুষের বাস।

গত ১০ বছর ধরে উত্তর-পূর্ব ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে জিপিএসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে করে গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে বলে সিএনএনের খবরে জানানো হয়েছে। আর গবেষণালব্দ ম্যাপে দেখা গেছে, লাল কালি দিয়ে দাগ দেওয়া জায়গার নিচে লুকিয়ে থাকা চ্যুতির অবস্থান। আর ম্যাপের যে জায়গাগুলো বেশি আলোকোজ্জ্বল সেখানেই বেশি সংখ্যক মানুষের বসবাস।

গবেষকদলের প্রধান স্টেকলার বলেন, ভূ-চ্যুতি নিয়ে এই গবেষণায় আমরা চ্যুতির চারপাশে প্লেটগুলোতে গতি ও অঙ্গবিকৃতি দেখতে পেয়েছি। মাটির নিচে প্লেটগুলোর এভাবে অবিন্যস্ত চলাচলের কারণে চাপের সৃষ্টি হচ্ছে, যার কারণে ভূমিকম্প অনিবার্য। তবে এই ধরনের ভূমিকম্প কবে ঘটতে পারে, আরো গবেষণা না করে তার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।