হিন্দুস্তানের চুড়ান্ত যুদ্ধ সম্পর্কিত সহীহ হাদীস সমূহ

রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন পূর্ব দিকে তাকিয়ে বড় বড় করে নিঃশ্বাস নিচ্ছিলেন, এমন অবস্থায় এক সাহাবি জিজ্ঞাস করল, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনি এমন করছেন কেন?”

১) রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি পূর্বদিক থেকে বিজয়ের গন্ধ পাচ্ছি। সাহাবি (রাঃ) জিজ্ঞাস করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিসের বিজয়ের গন্ধ পাচ্ছেন? রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পূর্বদিকে মুসলিম ও মুশরিক ( যারা মূর্তিপূজা করে) তাদের মাঝে একটি যুদ্ধ হবে, যুদ্ধটা হবে অসম, মুসলিম সেনাবাহিনী সংখ্যায় খুব কম থাকবে, এবং মুশরিকরা থাকবে সংখ্যায় অধিক। মুসলিমরা এতে মারা যাবা যে রক্তে মুসলিমদের পায়ের টাঁকুনু পর্যন্ত ডুবে যাবে।  মুসলিম রা তিন ভাগে বিভক্ত থাকবে, এক সাথে এত বড় মুশরিক সেনাবাহিনী দেখে ভয় পেয়ে পালাবে। রাসুল(সাঃ) বললেন তারাই হল জাহান্নামি। আর এক ভাগ এর সবাই শহীদ হবেন। শেষ ভাগ এ যারা থাকবে, তারা আল্লাহ্ আর উপর ভরসা করে যুদ্ধ করে যেতে থাকবে , এবং শেষ পর্যন্ত জয় লাভ করবেন। রাসুল (সাঃ) বলেছেন– এই যুদ্ধ, বদরের যুদ্ধের সমতুল্য।

সুবহানাল্লাহ,  উনি এই কথাও বলেছেন যে মুসলিমরা যে যেখানেই থাকুক না কেন , সবাই যেন ওই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।

২) হযরত সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমার উম্মতের দুটি দলকে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নাম থেকে মুক্ত ও স্বাধীন করে দিবেন। একদল হল, যারা হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। আরেক দল হল, যারা শেষ জামানায় হযরত ঈসা ইবনে মারিয়ম (আঃ)এর সঙ্গী হবে। (নাসায়ী শরীফ খন্ড-১,পৃষ্ঠা-১৫২ ও তাবরানী)

এই হাদীসটি অন্য বর্ণনায় এভাবে এসেছে, রাসুল (সা) বলেছেন, আমার উম্মতের দুটি দলকে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামের আগুন থেকে হিফাজত করবেন। একদল হল, যারা হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে। আরেক দল হল, যারা শেষ জামানায় হযরত ঈসা ইবনে মারিয়ম (আ)এর সঙ্গী হবে। (মুসনাদে আহমাদ হাদিস-২২২৯৫, খন্ড -১৬পৃষ্ঠা-২৯৫, বায়হাকী খ-৯,পৃষ্ঠা-১৭৬,নাসায়ী শরীফ, জিহাদ অধ্যায়)

৩) হযরত আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। রাসূল(সা) বলেছেন, “এ উম্মতের মধ্যে একটি মিশন সিন্ধু ও হিন্দুস্থান তথা ভারতের দিকে পরিচালিত হবে। আমি যদি এ অভিযান পেয়ে যাই এবং জিহাদ করে শহীদ হতে পারি তাহলে এমনটিই করব। আর যদি জীবিত ফিরে আসি তাহলে আমি মুক্ত স্বাধীন, আবু হুরায়রা হয়ে যাব। আল্লাহ্ আমাকে দোযখের আগুন থেকে মুক্ত করে দিবেন। (মুসনাদে আহমদ,হাদিস-৮৮০৮,খ-৯ পৃষ্ঠা-১১)

হযরত আবু হুরায়রা আরও বর্ণনা করেন, রাসূল (সা) আমাদেরকে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ওয়াদা নিয়েছিলেন। আমি যদি এ অভিযান পেয়ে যাই আহলে আমি যেন আমার জান- মাল এতে ব্যয় করি। আর যদি আমি এ যুদ্ধে নিহত হই তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ শহীদরুপে পরিগনিত হব। আর যদি জীবিত ফিরে আসি তাহলে আমি জাহান্নাম থেকে মুক্ত আবু হুরায়রা হয়ে যাব।” (মুসনাদে আহমাদ,হাদিস-৭১২৮, খ-৬পৃষ্ঠা-৫৩৩, সুনানে কুবরা, ইমাম নাসায়ী হাদিস ২/৪৩৮৩খ-৩ পৃষ্ঠা-২৮)

## আলোচ্য হাদিস সমূহে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ গ্রহনকারী মুসলিমদের মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ যে মুসলিম ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিহত হবে সে হবে শ্রেষ্ঠ শহীদ। আর যে মুসলিম লড়াই করে জীবিত ফিরে আসবে, সে হবে জাহান্নাম হতে মুক্ত স্বাধীন মুসলিম। এ থেকে আরও প্রতিয়মান হয় যে, যদি কোন মুসলিম ভারতপন্থিদের হাতে নিহত হয় সেও শ্রেষ্ঠ শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। আর যদি কোন মুসলিম কোন ভারতপন্থির হাতে নির্যাতিত হবে, জখমী হবে তাহলে সেও জাহান্নাম হতে মুক্তি লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।

উনি বলেছেন খোরাসান অঞ্ছল থেকে কালেমা সম্বলিত পতাকাবাহী এক দল এই যুদ্ধ শুরু করবে। পূর্ব দিকে আমরাও ও পড়ি , একসময় আমরাও খোরাসানের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যা এখন নেই। আল্লাহ্ আমাকে ও আমাদেরকে সহীহভাবে বুঝার তৌফিক দান করেন। আমীন।।