২শ বছর পুরনো হাতে লেখা কোরআনের সন্ধান পাওয়া গেছে যা এখন নষ্ট হওয়ার পথে

বিশেষ পদ্ধতিতে খড় দিয়ে কাগজ তৈরির পর সীমের বীজ পুড়িয়ে তা দিয়ে কালি বানিয়ে বাঁশের কলম দিয়ে হাতে লিখিত কোরআন শরিফটির কথা জেলার অনেকেই জানে না। অথচ ২শ বছর পরও কোরআন শরিফের কপিটি অক্ষত আছে। কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে, এখনই কোরআন শরিফটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করা হলে ভবিষ্যতে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ঐতিহাসিক পবিত্র কোরআনের এ কপিটি গাইবান্ধা সদর উপজেলার সার্কিট হাউজ সংলগ্ন সুখনগর এলাকার এ্যাডভোকেট সেকেন্দার আযম আনামের বাড়িতে সংরক্ষিত আছে। এরপূর্বে এটি সংরক্ষিত ছিলো জেলার সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে।

এরপূর্বে এটি সংরক্ষণ করেন তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার মরহুম আবদুল মান্নান আখাওয়ান্দ।

আবদুল মান্নান আকাওয়ান্দ ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মারা যাওয়ার পর এ্যাডভোকেট সেকেন্দার আযম আনাম কোরআন শরিফটি নিজ দায়িত্বে রেখে সংরক্ষণ করে আসছেন।

এ্যাডভোকেট সেকেন্দার আযম আনাম বাংলানিউজকে জানান, তার বাবা মরহুম আবদুল মান্নান আখাওয়ান্দের দাদা ফইম উদ্দিন আখাওয়ান্দ কোরআন শরিফটি নিজ হাতে লিখেছেন। এটি প্রায় ২শ বছর পুরোনো। মরহুম ফইম উদ্দিন আখাওয়ান্দ কোরআনের কপিটি তার ছেলে মরহুম মাগন আখাওয়ান্দের কাছে সংরক্ষণের জন্য তুলে দেন। পরবর্তীতে মাগন আখাওয়ান্দ এটি সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার মরহুম আবদুল মান্নান আখাওয়ান্দকে সংরক্ষণ করার জন্য তার তত্ত্বাবধানে দেন। তার ইন্তেকালের পর এটি এখন সংরক্ষণ করছেন এ্যাডভোকেট সেকেন্দার আযম আনাম।

কোরআন শরিফটি লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, খড় দিয়ে তৈরি এক ধরনের বিশেষ কাগজ আর সীমের বীজ পুড়িয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বানানো কালি দিয়ে।

১৯৬০ সালে রংপুরে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সংস্কৃতি মেলায় কোরআনের কপিটি প্রথম প্রদর্শিত হয়। ওই সময় কোরআন শরিফটি দেখতে দূর-দূরান্তের হাজার হাজার দর্শনার্থী এসেছিলেন।

এ্যাডভোকেট সেকেন্দার আযম আনাম আরও জানান, কিশোর বয়সে মরহুম ফইম উদ্দিন আখাওয়ান্দ তার বাবার জোরদারী সংসারের সুখ ও সম্পদ ত্যাগ করে এক সময় বাড়ি ছেড়ে দেশান্তরিত হন। পরে বাড়ি ফিরে তিনি পড়ালেখা করতে ভারতে চলে যান। এরপর ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে মরহুম ফইম উদ্দিন আখাওয়ান্দ আরবি ও ফারসি ভাষায় পান্ডিত্য অর্জন করেন। এ পন্ডিত্যের জন্য ভারতে তিনি ‘আখওয়ান্দ’ (জ্ঞানী) উপাধী লাভ করেন।

পবিত্র কোরআন শরিফের ধর্মীয় ও প্রত্নতাত্বিক মূল্য বিবেচনা করে এর সংরক্ষণ ও জাতীয় পর্যায়ে সংরক্ষণের তাগিদ অনুভব করছেন আখাওয়ান্দ পরিবারের সদস্যরা।