৭৪৩ রানের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্দান্ত এক জয়

দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে ৩৭১ রানের পাহাড়। কিন্তু যেখানে কিলার মিলার রয়েছেন সেখানে চিন্তা নেই দলটির। বিধ্বংসী এ ব্যাটসম্যানের ভয়ঙ্কর ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার বল হাতে রেখে ও চার উইকেটের জয় পায় প্রোটিয়ারা। আর এ জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডেতে ৩-০তে সিরিজ নিজেদের করে নিল ফাফ ডু প্লেসিসের দল।

প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২৯৫ রানের লক্ষ্য মাত্র ৩৬.২ ওভারে পেরিয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সে ম্যাচে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের খেলার ধরনটা এমনই ছিল যে মনে হয়েছে স্কোরটা আরও বড় হলেও জয় পেতে তাদের কোনো অসুবিধা হতো না। সেই মনে হওয়াটা কাল একেবারে হাতে-কলমে তারা বুঝিয়ে দিল।

ডারবানের কিংসমেডে এদিন দু’দলের মোট রান উঠলো ৭৪৩। আর ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড রান তাড়া করে জয়। এর আগের রেকর্ডটিও এই অজিদের বিপক্ষে দিক্ষণ আফ্রিকার। যেটি ২০০৬ সালে জোহার্নেসবার্গে ৪৩৪ রান তাড়া করে জিতেছিল সে সময়ের গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্ব দলটি।

৩৭২ রানের জয়ের লক্ষে খেলতে নেমে দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও হাশিম আমলার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালোই করে স্বাগতিকরা। তারা দু’জনে মিলে ৬৬ রান করেন। আমলা ৪৫ করে আউট হলেও ৭০ রান করেন ডি কক। মাঝে অন্য কোনো ব্যাটসম্যান বড় স্কোর না করতে পারলে ম্যাচের হাল ধরেন ডেভিড মিলার। পরে সফরকারী বোলারদের তুলোধুনো করে তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এদিন তিনি ৬৯ বলে সেঞ্চুরি করেন। যা প্রোটিয়া ইতিহাসে ষষ্ঠ দ্রুত সেঞ্চুরি। এর আগের পাঁচটি দ্রুত সেঞ্চুরি অবশ্য এই সিরিজে ইনজুরির কারণে খেলতে না পারা এবি ডি ভিলিয়ার্সের অধীনে।

কিলার খ্যাত মিলার শেষ পর্যন্ত ৭৯ বলে ১০ চার ও ছয় ছক্কায় ১১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন।

মিলারের সঙ্গে এদিন যোগ্য পার্টনারশিপ গড়ে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন মাত্রই চতুর্থ ওয়ানডে খেলতে নামা ফাস্ট বোলার অ্যান্ডিল পেহলুকওয়াও। তিনি শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৪২ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। অজি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট পান জন হ্যাস্টিংস।

টসে জিতে এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ সূচনা করেন সফরকারী দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ। তারা দু’জনে মিলে উদ্বোধনী জুটিতে ১১০ রান তোলেন। ফিঞ্চু ৩৪ বলে ৫৩ রানে আউট হন। তবে অজি ওপেনার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১১৭ রান করেন ওয়ার্নার। তিনি ১০৭ বলে ১৩ চার ও দুই ছক্কায় তার ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন। তুলে নেন ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি।

অন্যপাশে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। ১০৭ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে ১০৮ রান করে আউট হন তিনি। এই দুই সেঞ্চুরিতে দলটি শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভার শেষে ছয় উইকেট হারিয়ে ৩৭১ রান করেন। তবে ম্যাচ সেরা মিলারই এদিন সব আলো কেড়ে নেন।

প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে ডেল স্টেইন ও ইমরান তাহির দুটি করে উইকেট তুলে নেন।

আগামী ৯ অক্টোবর পোর্ট এলিজাবেথে দু’দলের চতুর্থ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।