একজন ‘হিন্দু’ নায়েককে নিয়ে মুসলিম বাংলায় হইচই কেন? কেন? কেন?

১। জাকির নায়েক তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব আলোচনা করতেন। তিনি বলতেন, হিন্দু কোনও ধর্ম নয়, এটা একটা জাতীয়তা। সিন্ধু অববাহিকার অধিবাসীরা ‘হিন্দু’ বলে বিবেচিত হইবেন। সে যুক্তিতে জাকির নায়েক নিজেকে ‘হিন্দু’ দাবি করেন। তার মতে, হিন্দুস্তানে যারা থাকে, তারা সবাই হিন্দু।

উপমহাদেশীয় প্রেক্ষাপটে এসব কথাবার্তা জঙ্গিবাদ নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়ায়। জাকির নায়েকের লেকচারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে তাগিদ, তা থেকে বরং আমার তাকে নিও ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানির ক্যানভাসার বলেই সন্দেহ হয়। আর তাই পিস টিভির মতো সুস্থ স্বাভাবিক ও যৌক্তিক ধর্মচর্চার এই মিডিয়া আউটলেট বন্ধ করায় বরং জঙ্গিবাদীরাই লাভবান হয়েছে। বঙ্গীয় মুসলিমের ধর্মীয় আলোচনার এই গ্যাপ পূরণে সাঈদীদের এগিয়ে আসার একটা সুযোগ তৈরি হলো।

২. এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, ওসামা বিন লাদেনের কর্মকাণ্ডকে কী আপনার জিহাদ মনে হয়?

ডাক্তার জাকির নায়েক বললেন, আমি জানি না। অবশ্য কেয়ামতের দিন আল্লাহ আমাকে এই প্রশ্ন করবেন না যে বিন লাদেন জিহাদ করেছেন কী না, জাকিরকে প্রশ্ন করবেন– জাকির জিহাদ করেছে কী না।

এরপর জাকির নিজের নফসের সাথে জিহাদের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

ওই লেকচারে আমিও আপনাদের মতো জঙ্গিবাদের উসকানি খুঁজছিলাম। পাইনি।

৩. গোলাম আযমের বড় ছেলেকেও (যদিও তিনি জামায়াতে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করেন না) দেখলাম পিস টিভির জন্য সে কি মায়াকান্না! যদিও ‘জামায়াতে ইসলাম’ বিশারদরা এতোদিন নীতিগত কারণে জাকির নায়েকের বিরোধিতা করে আসছিল। জাকিরের তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে তাদের আপত্তি আছে। একমাত্র ইসলাম ছাড়া অন্য কোনও ধর্ম নিয়ে আলোচনায় জামায়াতের আগ্রহ নেই। জাকির যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির লেকচার দেন, তাতে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবদুল্লাহিল আযমীর এই কান্নাকাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক, পিস টিভি ইস্যুতে স্টার জলসা-জি বাংলা পেঁচিয়ে প্রগতিশীলদের চিন্তাধারা কপি করে তিনি এ নিয়ে রাজনীতি করছেন

৪. সেপটিক ট্যাংক কোনও রাষ্ট্রের থিংক ট্যাংক হয়ে গেলে যা হয় আর কি!

চট্টগ্রামে এসপির বউ মিতুকে হত্যা করতে যেহেতু তিনজন মোটরসাইকেলে করে এসেছিল, সারা দেশে মোটরবাইকে তিনজন চড়া নিষিদ্ধ করা হলো। পিস টিভির কেসটাও এমন! কোনটা ইসলাম আর কোনটা জঙ্গিবাদ, রাষ্ট্রকেতো আগে সেটা বুঝতে হবে।

উৎস ঃ চ্যানেল আই নিউজ