আগামী মাসেই এনআইডির স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু!

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির স্মার্ট কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বুধবার ইসির বৈঠকে বিতরণপ্রক্রিয়ার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ঢাকার দুই সিটি ও দেশের দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এই কার্ড বিতরণ করা হবে। আগামী মাসেই এই বিতরণের কাজ শুরু হতে পারে।

তবে এই স্মার্ট কার্ড নিতে হলে নাগরিকদের ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের মণির ছবি দিতে হবে। ইসি সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায়ে ঢাকার দুই সিটির ভোটারদের এই স্মার্ট কার্ড দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত আগেই ছিল। তবে কিভাবে বিতরণ করা হবে সে বিষয়ে গতকাল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকায় দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া  পরবর্তী পর্যায়গুলোতে কোন কোন এলাকায় এই স্মার্ট কার্ড বিরতণ করা হবে সেই সিদ্ধান্তও হয়েছে।  সংশ্লিষ্টরা জানায়, আগামী মাসের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহে এই কার্ড বিতরণ শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে শুরুর তারিখটি নির্ধারণ হবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির ভিত্তিতে। নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি অথবা প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে এই কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করতে আগ্রহী। নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ এ বিষয়ে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, এনআইডির স্মার্ট কার্ড কিভাবে কোন অবয়বে বিতরণ করা হবে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিস্তারিত পরিকল্পনা নিতে হবে। এনআইডি হচ্ছে বিশাল ব্যয়ের সরকারি কর্মসূচির একটি অংশ। নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে বাড়তি দায়িত্ব পালন করছে।

সে কারণে এর বিতরণব্যবস্থায় সরকারের সংশ্লিষ্টতার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো, ঢাকার দুই সিটির পর দেশের দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় এই কার্ড বিতরণ করার। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় ত্রাণ বিতরণসহ সরকারের নানা কর্মসূচিতে এনআইডির প্রয়োজন হয়। এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম গত মঙ্গলবার রাতে ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহউদ্দিন গত রাতে কালের কণ্ঠকে জানান, এনআইডির স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময় নাগরিকদের ১০ আঙুলের ছাপ ও আইরিশ বা চোখের মণির ছবি নেওয়া হবে। এতে নাগরিকের বায়োমেট্রিক্স ফিচার সংগ্রহের কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হবে। সচিব বলেন, এনআইডির তথ্যভাণ্ডারে নাগরিকদের হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ও তর্জনীর ছাপ রয়েছে। ২০০৮ সালে এই ছাপ সংগ্রহে অনেক ত্রুটি ছিল। এ সমস্যার সমাধান হবে নতুন করে দুই হাতের ১০ আঙুলের ছাপ সংগ্রহ হলে। এ ছাড়া আইরিশের ছবিও সংগ্রহ করা হবে। সচিব গতকাল বলেন, সিটি করপোরেশনগুলোতে কার্ড বিতরণ করা হবে প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের বাইরে পৌরসভা ও ইউনিয়ন কার্যালয় থেকে কার্ড বিতরণ করা হবে। যেসব পৌরসভা বড়, সেগুলোতে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কার্যালয়ও ব্যবহার করা হতে পারে। কবে নাগাদ এই কার্ড বিতরণ শুরু হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কমিশনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এটি শুরু করা দরকার।’

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের মণির ছবি সংগ্রহ সম্পর্কে বলেন, আন্তর্জাতিকভাবেও এটির চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া বেশি বয়সী নাগরিকদের অনেকের  বৃদ্ধাঙ্গুল ও তর্জনীর ছাপ স্পষ্ট নয়। এ কারণে ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রকল্পের মেয়াদ হচ্ছে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ জন্য ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে স্মার্ট কার্ড ছাপা শেষ করতে হবে। এখন যে পরিমাণ কার্ড ছাপা রয়েছে তা দিয়ে প্রথম পর্যায়ের বিতরণ সম্পন্ন করা যায়।’

প্রসঙ্গত, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন-২০১০-এ বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়ের জন্য একজন নাগরিকের বায়োমেট্রিক্স ফিচার যথা আঙুলের ছাপ, হাতের ছাপ, তালুর ছাপ, আইরিশ বা চোখের কনীনিকা, মুখাবয়ব, ডিএনএ, স্বাক্ষর ও কণ্ঠস্বর সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু এ কাজের অনেকটাই বাকি রয়ে গেছে।