আমেরিকায় ৩ মাসে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে ১০ হাজার ৮১৬ জন!

করোনা মহামারীর মধ্যেও গত বছর আমেরিকাতে ৬ শত গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯,২২৩ জন। আরো ২৪,০০০আমেরিকান মারা গেছেন বন্দুকের গুলিতে, যার অধিকাংশই আত্মহত্যা ছিল। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের বরাতে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সূত্র জানায়, বন্দুকের গুলিতে নিহতের এ সংখ্যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। আর চলতি বছরের ৩ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বিচার গুলি বর্ষণে নিহত হয়েছেন ২৭ জন। এরমধ্যে গত তিন সপ্তাহেই মারা গেছে ২২ জন। এরমধ্যে দুই পুলিশ অফিসারও রয়েছেন। অর্থাৎ দিন যত যাচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ কর্তৃক অসহায় মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার প্রবণতাও বেড়েই চলছে। এমনকি, এ বছর ভিকটিমের মধ্যে শিশুও রয়েছে। 

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চেয়েও বর্ণ-গোত্র বিদ্বেষ প্রভাব ফেলছে এমন অপরাধে। গত বছরের মে মাসে মিনেসোটায় জর্জ ফ্লয়েডকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভ চরমে উঠেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা ছাড়িয়ে গোটাবিশ্বে টালমাটাল অবস্থা তৈরি হলে  যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সিটিতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিক্ষোভের আড়ালে দোকান ভাংচুর, লুটতরাজের ঘটনাও ঘটেছে। 

একদিকে পুলিশের আচরণের নিন্দা, প্রতিবাদ এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি, আরেকদিকে নিরীহ মানুষকে পাখির মত গুলি করে হত্যায় প্রবৃত্ত হয় উগ্রপন্থি অথবা করোনায় মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়া কিছু লোক।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৩ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকের গুলিতে নিহত হয়েছে মোট ১০,৮১৬ জন। এরমধ্যে নিজের পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ৬,১৩৮ জন। আর ঘাতকের বুলেটে প্রাণ কেড়েছে অবশিষ্ট ৪,৬৭৮ জনের। এরমধ্যে শিশুর সংখ্যা ৭৩। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৮,৩১৯ আমেরিকান। আহতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ১৪১।  নির্বিচার গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১২১টি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বন্দুকের গুলিতে মারা গেছে ১৫,২০৮ জন। সে বছর নিজ আগ্নেয়াস্ত্রে কতজন আত্মহত্যা করেছে সে তথ্য এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে ২০১৮ সালে মারা গেছে মোট ২৪,৪৩২ জন। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৩,৮৫৪।

এমন অবস্থা বন্ধে গত নির্বাচনের আগে জো বাইডেন অঙ্গীকার করেছিলেন। সে অনুযায়ী ডেমোক্রেটদের ভোটে প্রতিনিধি পরিষদে একটি বিল পাশ হলেও সিনেটে রিপাবলিকানদের অনীহার কারণে তা ঝুলে রয়েছে। সেই বিলে বলা হয়েছে যে, মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়কারীর অতীত রেকর্ড পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। অর্থাৎ যারা অপরাধী বা সবসময় গরম মেজাজ নিয়ে চলাফেরা করে তাদের কাছে মারাত্মক অস্ত্র বিক্রি করা যাবে না।

তথ্য সুত্রঃ ওয়াশিংটন পোস্ট।