চাকরির কথা বলে নিখোঁজ হন জঙ্গি খ্যাত ‘প্রকৌশলী’ রাশিক

রাজধানীর কল্যাণপুরে মঙ্গলবার অপারেশন স্টর্ম টোয়েন্টি সিক্সে নিহত নয় ‘জঙ্গি’র মধ্যে তাজ-উল-হক রাশিক ছিলেন প্রকৌশলী। রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন তিনি। গত বছর ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাস করেন। এরপরই চাকরি করার নামে বাসা থেকে উধাও হন।

গত ১ জুলাই রাজধানীর হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর থেকেই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়টি আলোচনায় আসে। এই বেকারিতে কমান্ডো অভিযানে নিহত ‘জঙ্গি’ নিবরাসও ছিলেন নর্থ সাউথের শিক্ষার্থী। এছাড়া ওই অভিযানে আটক হাসনাতও নর্থ সাউথের শিক্ষক ছিলেন। জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এর আগে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরখাস্ত করেছিল। নর্থ সাউথের আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

রাজধানীর কল্যাণপুরে নিহত ধানমন্ডির বাসিন্দা ‘জঙ্গি’ তাজ-উল-হক রাশিক সম্পর্কে জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরে আজম মিয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে তাজ-উল-হক রাশিক নর্থ সাউথ থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পাস করে বের হন। ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান রাশিকের বাবা রবিউল হক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন। ঢাকার বাইরে চাকরির কথা বলে রাশিক বাসা থেকে চলে যান। নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত পরিবার জানতো রাশিক চাকরি করছেন। পরিবারের সঙ্গেও তার কমবেশি যোগাযোগও ছিল। এ কারণেই পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) বা মামলা করা হয়নি।

অপারেশন স্টর্ম টোয়েন্টি সিক্সে নিহত প্রকৌশলী তাজ-উল-হক রাশিকের বাবা রবিউল হক ১০/১২ বছর যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। এখন দেশেই ব্যবসা করছেন। অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গে পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবসাও রয়েছে তার।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আজ সন্ধ্যার পর যে সাত ‘জঙ্গি’র পরিচয় প্রকাশ করেছে সেখানে রাশিকের নাম রয়েছে তিন নম্বরে। ডিএমপির অনলাইন নিউজ পোর্টালে নিথর দেহের সঙ্গে তার জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবিও পাশাপাশি দেয়া হয়েছে।

এদিকে ডিএমপির প্রকাশিত তালিকার চার নম্বরে রয়েছে আকিফুজ্জামান খানের নাম। রাজধানীর গুলশানের ১০ নম্বর রোডের ২৫ নম্বর বাসায় পরিবারে সঙ্গে বসবাস করতেন তিনি। তবে তার ব্যাপারে গুলশান থানায় কোনো তথ্য নেই।

আকিফুজ্জামান খান সম্পর্কে জানতে চাইলে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন মিয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, আমরা আকিফুজ্জামান নামের কাউকে চিনিনা। তার ব্যাপারে আমাদের থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা নেই।

গত সোমবার রাতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানী কল্যাণপুরের পাঁচ নম্বর সড়কের ৫৩/৩ নম্বর বাড়িতে যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান চালায়। মঙ্গলবার ভোরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে নয় জঙ্গি নিহত হয়।

(ঢাকাটাইমস/ ২৭ জুলাই/ এএ/ এআর/ ঘ.)